
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের ১৭ মাস পর টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে।গত ৩০ ডিসেম্বর মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ভানুয়াবহ উত্তরপাড়া গ্রামের মো.সুজন মিয়া(৩২)বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার আদালতে এই মামলাটি করেন।সুজন গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. গোলাম মাহবুব খাঁন অভিযোগটি আমলে নিয়ে ১লা জানুয়ারি মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগটি এফআইআর হিসাবে গণ্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আসামিরা হলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল-সখিপুর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল,টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সাংসদ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ,সাধারণ সম্পাদক অপসারিত উপজেলা চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাহরিম হোসেন সীমান্ত,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শুভর ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক,উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম,গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ(পশ্চিম)সভাপতি, গোড়াই ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোশারফ, সাধারণ সম্পাদক(পূর্ব) সালাউদ্দিন ভূইয়া ঠান্ডু,ইউপি সদস্য আদিল খান,ইউপি সদস্য লিটন,লতিফপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শহিদুর রহমান আলহাজ, সাধারণ সম্পাদক বেঞ্জির আহমেদ বাবুল,উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সেতাব,গোড়াই শিল্পাঞ্চল শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম খান বিল্টু,উপদেষ্টা মীর টিপু,গোড়াই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সোহেল ভূইয়া,ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মীর মাহমুদুল হাসান পায়েল,সহ-সম্পাদক মীর উজাস,নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি(গোড়াই ইউনিয়ন পূর্ব)মোলাকাত হোসেন সিফাত,ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নালসহ ৪৪ জন।মামলার বিবরণে ৮নং আসামি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল-সখিপুর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন-নিপীড়নের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,গত বছরের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের উপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আসামিরা ছাত্র জনতার মিছিলে বাধা প্রদান করে।পরে মারপিট, হত্যা,ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট ভাঙচুর করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।গোড়াই ইউপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আদিল খান বলেন,দেড় বছর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে।বাদী সুজন আনসার একাডেমি এলাকায় আন্দোলন করতে গিয়েছিল।সেখান থেকে আহত হয়ে এসে আমাদের সবার কাছ থেকে চিকিৎসার কথা বলে আর্থিক সহযোগিতা নিয়েছে।মাঝে মধ্যে ওর বাবাও এসে টাকা নিয়ে যায়।সুজন একটা ব্যবসা শুরু করেছে।এই ব্যবসা ভালো না।মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করছেন।আপনারা আমাদের বাঁচান।এ বিষয়ে সখিপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীরের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার জন্য একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবেন।সালাহউদ্দিন আলমগীর বলেন,আদালতে মামলার বিষয়টি অবগত হয়েছি,মামলায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।মামলার নথিপত্র হাতে পেলে আইনিভাবে মোকাবেলা করবো।তিনি আরো বলেন,সুজন নামের এক যুবক মামলাটি করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন,তিনি গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,এজাহারের কপি থানায় পৌঁছেনি।