
মোস্তাফিজুর রহমান আপেল, কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর–মহেশপুর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আলোচনায় এসেছেন অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। মোট প্রদত্ত ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৬ ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট। ফলে ২৬ হাজার ৩৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে ২০১৮ সালে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ঝিনাইদহ-৩ আসনটি কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। স্থানীয়ভাবে জননন্দিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থাকার কারণে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, একাধিক মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। এমনকি চাকরির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও তাকে জোরপূর্বক অবসরে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়:
অধ্যাপক মতিয়ার রহমান ১৯৫৭ সালের ৭ আগস্ট ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ৫নং এলাঙ্গী ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম হাজী আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মাতা জায়েদা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার সহধর্মিণী নাজমা বেগম একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
শিক্ষাজীবন:
এলাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের সূচনা করে তিনি কোটচাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি এবং খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন:
১৯৮২ সালে কুমিল্লার চাঁদপুর আল আমিন একাডেমিতে ইংরেজি প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের মোড়াপাড়া পাইলট হাইস্কুল, কোটচাঁদপুর আলিয়া মাদ্রাসা ও জীবননগর ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
লেখক ও গবেষক হিসেবে পরিচিতি:
অধ্যাপক মতিয়ার রহমান একজন লেখক ও গবেষক হিসেবেও পরিচিত। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে,
শেষ নবীর সন্ধানে,
মুসলমানদের হারানো অতীত,
কোরবানীর গোড়ার কথা,
জীবনের সঠিক কর্মসূচী ।
এছাড়াও তিনি একজন নজরুল গবেষক হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক জীবন:
১৯৭৬ সালে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরবর্তীতে তিনি ছাত্র সংগঠন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড:
সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি নিয়মিত—
আর্থিক সহায়তা প্রদান,
শীতবস্ত্র ও কোরবানির গোশত বিতরণ,
নলকূপ স্থাপন,
মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ ও সংস্কার,
সহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছেন।
বিজয় প্রতিক্রিয়া:
বিজয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক মতিয়ার রহমান বলেন,
জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতিদান দিতে আমি উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আজীবন কাজ করে যাবো।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই তার এই বিজয়ের প্রধান কারন।