
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় স্ত্রী ও কোলের শিশুসন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় রকিবুল হাসান রাকিব (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে রকিবুল হাসান রাকিবকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনের অপর একটি ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
দণ্ডিত রকিবুল হাসান রাকিব মির্জাপুর উপজেলার তেলিনা উত্তরপাড়া গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী কনা আক্তার ইতির কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন রাকিব। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কনা আক্তার ইতি তার ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান মোহাম্মদকে নিয়ে বাবার বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার আজগানা গ্রামে চলে যান।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বিকেলে রাকিব শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও শিশুসন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে কনা আক্তার ইতির মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ ও হাত এবং শিশু মোহাম্মদের কপাল ও পা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে আদালতে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।