
মো: আকরাম হোসেন
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি,ঢাকা কলেজ।
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪: ঢাকা কলেজ সাইকোলজি সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত “স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট” কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আমাদের জীবনের একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগের মতো বিষয়গুলো মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কর্মশালা আয়োজন করেছে, যা মানসিক চাপ কমানোর বিভিন্ন কৌশল শেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ঢাকা কলেজ মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার মুনমুন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছেন এবং এ ধরনের কর্মশালা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কর্মশালায় তিনি স্ট্রেসের তাত্ত্বিক দিক এবং এর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের কারণে স্ট্রেস বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য কিছু কৌশলগত গেমস আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে তারা স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রাকটিক্যাল উপায় শিখতে পারেন। এর মধ্যে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান এবং স্ট্রেস কমানোর কিছু সহজ কৌশল শেখানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালাটি উপভোগ করেন এবং ভবিষ্যতে এই কৌশলগুলি তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজ মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আখতারা বানু। তিনি এই ধরনের উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং বলেন, “মানসিক চাপ বর্তমানে এমন একটি সমস্যা, যা প্রতিটি মানুষের জীবনে কম-বেশি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এ ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মশালা হওয়া প্রয়োজন।”
এই কর্মশালার সাফল্যের পর, ঢাকা কলেজ সাইকোলজি সোসাইটি ঘোষণা করেছে যে,ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কর্মশালা আয়োজন করবে। সোসাইটির সদস্যরা জানিয়েছেন যে তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাবে। বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মশালা কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।