
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষদের যাতে ভোগান্তি না পোহাতে হয় সে জন্য ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহন করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।
এবার ঈদে গাড়ির চাপ বেশি থাকলে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ওয়ান ওয়েতে যানবাহন চলাচল করবে । শুধু উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের জন্য মহাসড়কের এ অংশটি বরাদ্দ থাকবে। ঢাকাগামী যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হয়ে গোলচত্তর দিয়ে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা প্রবেশ করবে। এতে করে যানজট অনেকটা কমে যাবে। তবে ঈদ ফেরত সাধারণ মানুষের এই ১৩ কিলোমিটার যেন গলার কাঁটা হয়ে দাড়ায় প্রতি বছরই।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে যানবাহনগুলো চারলেন সড়কের সুবিধায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু এলেঙ্গার পর থেকে সেতু পর্যন্ত সড়ক দুইলেন। চারলেনের যানবাহন দুই লেন সড়কে প্রবেশের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। এবার এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজার কাছে গোল চত্বর পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এক মুখী (ওয়ানওয়ে) করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে এই সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলবে। আর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সেতু পার হওয়ার পর বিকল্প সড়ক হিসেবে গোলচত্বর থেকে উত্তর দিকে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসবে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য যাত্রীরা যানজটে আটকা পড়লে মহাসড়কের পাশে পেট্রোল পাম্প, হোটেল রেস্তোরাগুলোতে যাতে শৌচাগার ব্যবহার করতে পারে সে জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের পাশে পাম্প, রেস্তোরা নেই। তাই ওই অংশে ২৫টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ইফতার ও সেহরীতে যাতে অসুবিধা না হয় সে জন্য এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত যানজটে আটকে পড়া মানুষের মাঝে পানি, শুকনা খাবার সরবরাহের জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও তিনি আরও জানান, এবার ঈদে ৭শত পুলিশ হাইওয়েতে ডিউটি পালন করবে। কারন হিসেবে তিনি বলেন, অনেক সময় ঈদের আগের দিন রাস্তা তুলনামূলকভাবে ফাকা হয়ে যায়। তখন অনেক ব্যাবসায়ীরা ফাকা রাস্তায় বাড়িতে যেতে নিলে ছিনতাইকারী বা মলম পার্টির খপ্পরে পড়তে পারে। সেজন্য সকল পুলিশ ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরের দুইদিন পর্যন্ত হাইওয়েতে ডিউটি করবে যেনো তারা কেউ কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়।
এদিকে হানিফ গাড়ির চালক মোখলেস হোসেন বলেন, আমাদের ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে কোন সমস্যা হয় না, তবে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যেতে সমস্যা হয়ে যায়।এই রাস্তায় অনেক চালক আছে যারা গাড়ি ওবারটেকিং করার সময় রং সাইড দিয়ে প্রবেশ করে যার ফলে যানযট লেগে যায়।
এনা পরিবহনের কুদ্দুস মিয়া নামে এক চালক বলেন, আমরা চাই একলেনে এই রাস্তা হোক ঈদ সিজনে। তাহলে দেখা যাবে যে ভালোভাবে সেতু পর্যন্ত যেতে পারবো। এবার সিরাজগঞ্জ অংশে রাস্তা ভালো যার ফলে যানযট থাকবেনা বলে মনে করি।
এস আর পরিবহনের মালেক মিয়া বলেন, পুলিশ যদি ঠিক মতো গাড়ি পার করতে পারে তাহলে সমস্যা হবে না। পুলিশ রাস্তার মাঝে গাড়ি থামালে সেই গাড়ির পিছনে অন্য গাড়ি ব্রেক করে যার ফলে সমস্যা তৈরি হয়। মাঝে মাঝে সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করে দেয় কর্তপক্ষ তখন সমস্যা হয়। গাড়ি টোল না দিতে পেরে পিছনে যানযট লেগে যায়।
সবুজ মিয়া নামে রংপুর গামী এক যাত্রী বলেন, পুলিশ যদি যত্রতত্র ভাবে গাড়ি পার্কিং করতে না দেয় রাস্তায় তাহলে যানযট হবে না। পুলিশ ভালোভাবে ডিউটি করলে এবার কোন ভাবেই যানযট হবে না।
বিলকস আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, আমরা যারা মহিলা যাত্রী ঈদে বাড়ি যাই তখন দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকতে হয়। এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত কোথাও গাড়ি ব্রেক করার জায়গা নেই তখন আমাদের বাথরুম আসলে কোথাও যেতে পারিনা। পুলিশ যেহেতু এই ব্যবস্থা করেছে তাহলে সুবিধা হবে। আবার বালুর গাড়ি চলাচল করে। প্রশাসনের উচিত ঈদের কয়দিন বালুর গাড়ি বন্ধ রাখা।
রাজশাহী গামী ফরিদ হোসেন বলেন, এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে এই ঈদের সময় যদি কাজ বন্ধ রাখা হয় তাহলে বেশি যানযট হয়তোবা হবে না। এই কাজের জন্য মাঝে মাঝে রাস্তায় গাড়ি থেমে থাকতে হয়। এক সঙ্গে এতো গাড়ি রাস্তায় নামলে সমস্যা তো হবেই। অতিরিক্ত গাড়ির চাপের পাশাপাশি ফিটনেসহীন গাড়ি ও বেপরোয়া গাড়ি চলার কারণ বড় সমস্যা।
টাঙ্গাইল টু বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের ফোর লেনের কাজ করা মোনায়েম গ্রুপের সহকারি সুপারভাইজার মিজান বলেন, আমাদের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এখন প্রায় ৪০% কাজ হয়েছে। ঈদের আগে আমরা চার কিলোমিটার রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছি যাতে করে ঈদ সস্তিদায়ক হয় সবার জন্য।
এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ বিবিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, মাঝে মাঝে যখন সেতুর উপর গাড়ির চাপ পরে তখন টোল আদায়ে সমস্যা দেখা দেয়। ঠিক তখন সাময়িক ভাবে টোল বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে আমরা হাতে নেওয়ার চেষ্টা করি তখন দেরি হয়ে যায়। এবারও টোল বক্স বৃদ্ধি করে ৮থেকে ১০টা বসানো হবে।