
গাজীপুর প্রতিনিধি
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদরাসার ছাত্ররা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত এক কাতারে দাঁড়িয়ে সকল বিভেদের দেওয়াল ভেঙ্গে ছাত্র জনতা ঐক্যের ভীত রচনা করেছে।
তিনি গতকাল শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গাজীপুর কর্তৃক আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জয়দেবপুর ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী মাঠে মাগরিবের পর থেকে এই গণসমাবেশ শুরু হয়। প্রায় রাত দশটার দিকে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক সাহেবের প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে তিনি ৭১ ও ২৪ এর শহীদদের স্মরণ করে বলেন. শেখ হাসিনা বিগত ৫০ বছর রাজনীতি করেছে, প্রতিশোধ গ্রহণের রাজনীতি আর বিভাজনের রাজনীতি। শেখ হাসিনা প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েই রাজনীতি শুরু করেছিল। কিন্তু তার পিতা ৭১ থেকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩০ হাজার মায়ের কোল খালি করে গুম-খুন করেছিল। শেখ হাসিনা সে কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিল। এক তরফা প্রতিশোধ পরায়ণতার কারণে একজন মানসিক বৈকল্যের নাম শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বিচার হওয়া উচিত এই কারণে যে, তারা মানসিক প্রতিবন্ধী, সাইকো রোগীকে এত বছর ধরে এ দেশের মানুষের কাঁধের ওপর বসিয়ে রেখেছিল। আর এই মানসিক বিকারগ্রস্ত শেখ হাসিনা অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়েছে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। তার চেষ্টা ছিল, তার সাধনা ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নয়, অন্য একটি দেশের তিলকওয়ালী মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, পতিত স্বৈরাচারী শক্তি বাংলাদেশ থেকে পালিয়েগেছে। কোথায় গেছে। ভারত সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছে। দেওয়ারই কথা। কারণ ১৫ বছর ভারতের এজেন্ডা বস্তবাযন করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে শেখ হাসিনা। আর ভারত এদেশের মানুষের গণআকাঙ্খাকে বাদ দিয়ে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে তার সেবাদাসী বাংলাদেশের ক্ষমতায় মসনদে বসিয়ে রাখার জন্য এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে চিনি মিনি খেলেছে। আর্ন্তজাতিক বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে ছোটো করার জন্য সমস্ত আয়োজন ভারত করেছে। সরকারের কাছে দাবী আর্ন্তজাতিক আইন অনুযায়ী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভারতে আছেন। কিভাবে বিচার হবে সেটা বিচারিক প্রক্রিয়া। সেখানে বসে তাদের সীমান্ত প্রহরীদের মাধ্যমে আমার দেশের নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করার প্ররোচনা দিবেন। এদেশের মানুষ বরদাশত করবে না।
এছাড়াও তিনি বলেন, যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো ইনশাআল্লাহ এর উপর অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শক্তির উপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের কমিটমেন্ট ও অঙ্গীকার ছিলো নির্বাচনে বিজয় হলে দেশে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। এ অঙ্গিকার করে ১৯৭০ সালে জনগণ থেকে ম্যান্ডেট নেওয়া হয়েছিলো। ৭০ এর নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ যাদেরকে ভোট দিয়েছিলো তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার কারণে ৭১ এর ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। যে দেশের স্বাধীনতা আল্লাহর উপর আস্থা বিশ্বাস এবং কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আইন না করার অঙ্গিকারের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। কয়েক মাসের মধ্যে সে দেশের মানুষের চিন্তা চেতনা ঐতিহ্য ও অভিপ্রায়কে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে আরেকটি রাষ্ট্রের সংবিধানের মুলনীতিগুলোকে জোর করে এদেশের মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়ে ভিনদেশী প্রেসকিপশনে সংবিধান রচনা করা হয়। ৭১ এর চেতনাকে জবাই করে ৭২ এর চেতনাকে ৭১ বলে বাংলাদেশের মানুষের উপর ছাপিয়ে দিয়েছিলো। মানুষ যখন ৭২ এর চেতনাকে অস্বীকার করেছে তখনই স্বৈরাচার হাসিনা আমার দেশের ছাত্রজনতাকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছিলো। শেখ হাসিনা তার পেটুয়া বহিনী ছাত্রলীগ, যুবলীগ হাতুড়িলীগ দিয়ে ছাত্রজনতার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো। ছাত্রজনতাকে রক্তাক্ত করা হয়েছিলো। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সর্বশেষ তিনি বলেন, পরিপূর্ণ বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়া একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব। তাই মানব রচিত তন্ত্র-মন্ত্র বাদ দিয়ে আল্লাহ প্রদত্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা খেলাফতের দিকে সকলকে দাওয়াত দিচ্ছি।
উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গাজীপুর জেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ মাসউদুর রহমান। এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ। আর বৈরী পরিবেশেও সাধারণ মানুষের আগমনের মধ্য দিয়ে সমাবেশ স্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।