
জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ চালুসহ ৩৬ দফা দাবি উত্থাপন করে জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলন। এছাড়াও দাবিতে ছিলো কেন্দ্রীয় মসজিদের সার্বিক সংস্কার এবং নারীদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা, সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্দিরের জায়গা স্থায়ীকরণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ মন্দির নির্মাণ, মন্দিরের জন্য বাৎসরিক বাজেট প্রণয়নসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সমমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করে তারা।
জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলনের দাবীগুলো হলোঃ-
১. অবিলম্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা জাকসু, হল সংসদ এবং বিভাগীয় সংসদ কার্যকর করতে হবে।
২. ছাত্ররাজনীতি প্রশ্নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি ‘রিসার্চ টিম’ গঠন করে যৌক্তিক সমাধানে আসতে হবে।
৩. কলা ও মানবিকী অনুষদে মাদ্রাসা এবং মানবিক বিভাগ হতে আসা শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে সমস্ত বৈষম্য দূর করতে হবে। শিফটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা বাতিল কারে অভিন্ন প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এবং সকল পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে।
৪. জনকল্যাণমুখী গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও গবেষণা-বরাদ্দের ব্যবস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রাণ-প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্রের জন্য হুমকি এমন সমস্ত প্রজেক্ট বন্ধ করতে হবে।
৬. প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ক্লাস শুরু এবং যথাসময়ে শেষ করতে হবে। পূর্নাঙ্গ একাডেমিক ক্যালেন্ডার দিতে হবে। একজন শিক্ষক ফুলকোর্স ও হাফকোর্সে কতটি ক্লাস নিবেন তা পূর্ব নির্ধারিত হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার সাপেক্ষে ক্যাম্পাসে ফ্রি ইন্টারনেট চালু করতে হবে।
৭. শিক্ষক নিয়োগে গবেষণা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং পিএইচডিধারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে অবশ্যই লিখিত, ছাত্রছাত্রীদের সামনে ডেমো ক্লাস ও ভাইভা -এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এসএসসি, এইচএসসি এর ফলের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দিতে হবে। কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লিখিত পরীক্ষা নিতে হবে।
৮. গ্রহণযোগ্য ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের হল প্রশাসনে নিয়োগদানের মাধ্যমে হলসমূহের সমস্ত কাজ সম্পাদন করতে হবে।
৯. বিগত স্বৈরাচারী আমলে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের স্বচচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিশন গঠন করতে হবে।
১০. প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য লিফট, ওয়াশরুম, রাস্তার মার্কার নিশ্চিত করতে হবে।
১১. প্রত্যেক বিভাগে মান-উন্নয়ন পরীক্ষা চালু এবং ফাইনাল পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। টিউটোরিয়ালের খাতা ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১২. পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর চিকিৎসা কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জামাদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আবিলম্বে ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করতে হবে।
১৩. বিভাগ উন্নয়ন ফিসহ সকল প্রকার অবৈধ ফি বাতিল করতে হবে এবং রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট এর নিবন্ধন ফি কমাতে হবে।
১৪ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে এবং এই কমিশন পরবর্তীতে দুর্নীতি রুখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্তে একটা ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করতে হবে।
১৫. লাইব্রেরিকে আধুনিকীকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, ই-লাইব্রেরী ব্যবস্থা, প্রতিটি হলে পাঠকক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৬. সাংস্কৃতিক-সামাজিক পরিমন্ডলের জন্য বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে।
১৭. ক্লাসরুম সংকট নিরসন করতে হবে।
১৮. ডাইনিংয়ে পর্যাপ্ত ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।
১৯. উইকেন্ড এবং ইভেনিং কোর্সের নামে শিক্ষার বানিজ্যিকীকরণ বন্ধ করতে হবে।
২০. বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্ব ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ চালু করতে হবে।
২১. প্রতিটি মসজিদে স্থায়ী ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ এবং তাদের সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় মসজিদের সার্বিক সংস্কার এবং নারীদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা করতে হবে।
২২. সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্দিরের জায়গা স্থায়ীকরণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ মন্দির নির্মাণ, স্থায়ীভাবে পুরোহিত নিয়োগ, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ মন্দিরের জন্য বাৎসরিক বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সমমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
২৩. অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। প্রধান সড়কগুলোতে ফুটপথের ব্যবস্থা করতে হবে। যানবহনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
২৪. ক্যাম্পাসে অবস্থিত ক্যান্টিন, ডাইনিং এবং খাবার দোকানের খাবারে মান উন্নত করতে হবে। ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক সংস্কার এবং বিকালের নাস্তার উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত দোকানসমূহের পুরনো লিজ বাতিল করে এ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
২৫. রেজিস্ট্রার ভবন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর ইত্যাদিতে সেবার ক্ষেত্রে সকল অনিয়ম, সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম চালু করতে হবে।
২৬. পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনতে হবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত হত্যাকাণ্ড, হামলা, যৌন হয়রানিসহ অন্যান্য অপরাধ কার্যক্রমের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২৭. কোন শিক্ষক বা শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করলে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ‘একাডেমিক অবজারভেশন সেল’ গঠন করতে হবে এবং এ সেলে অবশ্যই ছাত্রপ্রতিনিধি রাখতে হবে।
২৮. প্রত্যেক অনুষদে ডীনস এওয়ার্ড চালু করতে হবে।
২৯. বিভাগে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক সিস্টেম চালু করতে হবে। দুপুর ১.১৫৮২। স্পামী শিক্ষক বাস বন্ধ করতে হবে।
৩০. নিয়মিত সমাবর্তনের আয়োজন করতে হবে। সমাবর্তনের সার্বিক ব্যবস্থা, পোশাক, খাদ্য ইত্যাদির মানোন্নয়ন করতে হবে।
৩১. পরীক্ষার সময়সূচি ১০.০০-২.০০ করতে হবে।
৩২. স্বৈরাচারী আমলে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট পুনর্গঠন করতে হবে এবং নিয়মিত সিনেট নির্বাচন দিতে হবে।
৩৩ দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা কাউন্সিল গঠন করতে হবে।
৩৪ কেবল মেধাভিত্তিক বৃত্তি নয়, দারিদ্র, য অস্বচ্ছলতার ভিত্তিতেও বৃত্তির বন্দোবস্ত করতে হবে।
৩৫. আন্তর্জাতিক জার্নালে মানসম্মত গবেষণা পাবলিকেশনের জন্য শিক্ষার্থীদেরও আর্থিক সহযোগিতার বন্দোবস্ত করতে হবে।
৩৬. প্রত্যেক বিভাগে নীতি-নৈতিকতা বিষয়ে কোর্স চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এসময় জাহাঙ্গীরনগর সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া জিসানসহ অনন্য নেতৃত্ব বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।