
খুবি প্রতিনিধি,
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসবের আমেজ। ঈদ মানে হাজার ব্যস্ততার মধ্যে নিজেকে একটু স্বস্তি পাওয়ার উদ্দীপনা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের মধ্যে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ইদুল ফিতর। এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে আনন্দ, মিলন এবং ভ্রাতৃত্ব। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈদ উদযাপন কিছুটা ভিন্ন এবং গভীরতর। কারণ তারা এমন একটি পর্যায়ে থাকে যখন পড়াশোনা, ক্যারিয়ার এবং পরিবার নিয়ে মনের মধ্যে একটি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই ব্যস্ততার মধ্যেই একটু সময়ের জন্য পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সাথে ঈদ উদযাপন তাদের জন্য এক ধরনের স্বস্তি ও আনন্দঘন বার্তা নিয়েই আগমন করে।শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা তুলে ধরছেন ভোরের বাংলা নিউজের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফিরোজ হাসান
পবিত্র ইদুলফিতর আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। প্রতিবছর ঈদটা পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে করবো বলে অসীম আগ্রহ নিয়ে থাকি। কখন বাড়ি যাবো। পরিবার,প্রতিবেশী, সকলে একসাথে ঈদের নামাজ আদায়, সাক্ষাৎকার, কোলাকুলি সবার সাথে দেখা অনুভূতি টা অন্য রকম। দীর্ঘ এক মাস রমাদানের রোজা রাখার পর ধনী-গরিব সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ইদের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে ওঠে প্রতিটা গ্রাম-গঞ্জ, শহর-গলি। ঈদ আমাদের শিক্ষা দেয় ইসলামে সবাই সমান, মানুষ মানুষকে ক্ষমা করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর ঈদের অনুভূতিটা অনেকটা পাল্টে গেছে। আগে পরিবারের সাথে পুরো রমাদানের রোজা রাখা হতো। সেহরী, ইফতার, বিকাল হলে পাড়ার ভাই বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলা এক অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দিতো।এখন বিষয়টা ভিন্ন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচমেট, বন্ধু, শিক্ষকদের সাথে ইফতার করা নতুন অভিজ্ঞতা ও ভালোলাগার সৃষ্টি করে। ইদুলফিতর আমাদের সকলের মাঝে সৃষ্ট ভেদাভেদ দূর করে দিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট করুক এই প্রত্যাশা।
এইচএম আরাফাত
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ঈদ মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস পবিত্র সিয়াম সাধনার পরেই আসে মুসলিম উম্মার জন্য একটি পবিত্র দিন ইদুলফিতর। এই উৎসব আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদের অনুভূতি কিছুটা ভিন্ন মাত্রা ধারণ করে। কারণ তারা পড়াশোনার জন্য অনেক সময় পরিবার থেকে দূরে থাকে এবং স্বাধীন একটি জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তাই ঈদ তাদের কাছে একদিকে যেমন আনন্দের উপলক্ষ, অন্যদিকে তেমনি আবেগ ও স্মৃতিরও বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ মানে অনেক দিনের ব্যস্ততার পর একটি দীর্ঘ ছুটি। এই ছুটিতে তারা পরিবার ও আপনজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়। সারাবছর পড়াশোনা, পরীক্ষা ও নানা ব্যস্ততার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকার যে শূন্যতা তৈরি হয়, ঈদের সময় তা কিছুটা পূরণ হয়। পরিবারের সঙ্গে একসাথে ঈদের নামাজ পড়া, প্রিয় খাবার খাওয়া এবং আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ তাদের মনে এক বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি করে।
তবে সব শিক্ষার্থী ঈদের সময় বাড়ি যেতে পারে না। অনেকেই হলে বা শহরে থেকে যায়। তখন তারা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ঈদ উদযাপন করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঈদ শুধু আনন্দই নয়, কিছুটা নস্টালজিয়াও নিয়ে আসে। ছোটবেলার সেই নির্ভেজাল আনন্দ, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সাথে কাটানো সময়ের স্মৃতি অনেক শিক্ষার্থীকে আবেগী করে তোলে। তবুও নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ এবং স্বাধীনতার স্বাদ ইদের আনন্দকে ভিন্ন রূপ দেয়।
মোঃ রোহেল আহমেদ আকাশ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঈদ মানেই ক্লান্তির অবসান পরিবারের সাথে কিছু সময় কাটানোর মুহূর্ত। কিন্তু এই খুশির সংজ্ঞা স্থানভেদে বদলে যায়। ঈদ মানেই সেই চেনা দৃশ্য শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে মানুষের স্রোত। সব ক্লান্তি ভুলে ট্রেনের ছাদে বা বাসের ভিড়ে ঝুলে হলেও বাড়ি পৌঁছানোর সেই যে আনন্দ, তার কাছে পৃথিবীর সব বিলাসিতা তুচ্ছ।তবে প্রতিবছরের ন্যায় বাড়িতে ইদ না করে পরীক্ষার জন্য বাড়িতে না গিয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হলে অবস্থান করলে সেটা হতো একদম অন্যরকম অনুভূতি। পড়াশোনার জন্য পরিবার ছেড়ে ঈদ মনে করিয়ে দেয় স্বপ্ন পূরণের জন্য মাঝে মাঝে চিরায়ত সুখের আবাস্হল ছেড়েও কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। কিভাবে পরিবারের বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু বান্ধব নিয়ে আরেকটা পরিবার গড়ে উঠে এরকম একটা অনুভূতির সাক্ষাৎ পেতাম। পরিবার ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো এ ঈদ শেখাতো যে রক্তের সম্পর্কের বাইরেও ভালোবাসার এক গভীর টান থাকে যা প্রতিকূল সময়ে আগলে রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতির পাতায় অমর হয়ে থাকতো সেই স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি টানলেও এ স্মৃতি থেকে ইতি টানতে পারতাম না। এ অভিজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দিত যে জীবন সব সময় সাজানো গোছনো উৎসবের নাম নয়, বরং প্রতিকূলতাকে হাসিমুখে গ্রহণ করাই পরিপক্বতা।
সারমিন আক্তার
শিক্ষার্থী, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
দীর্ঘদিন পর বাসায় এসে প্রতিদিনই ঈদের মতো লাগছে।রোজা রেখে সারাদিন ক্লাস, রান্নাবান্না, সিটি, প্রেজেন্টেশনের চাপ থেকে যে রেহাই পেয়েছি এটাই ঈদের আনন্দ কে চারগুন করে দিয়েছে। তবে এখন রিয়েলাইজ করি, যারা বাহিরে থাকে তারা কেনো ইদ নিয়ে এত উদ্দীপনা থাকে। পরিবারের সাথে একটু আড্ডা, ভালোবাসা,ঘুরতে যাওয়া আনন্দ সবমিলিয়ে সেই জন্য বেশ আলাদা একটা আগ্রহ থাকে। ছুটিতে কখন বাড়ি পৌছাবো?তবে ক্যাম্পাসে রোজা আলহামদুলিল্লাহ বেশ সুন্দর সময় কেটেছে। সন্ধ্যাবেলা খাজার মাঠে বন্ধুদের সাথে ইফতার এটা খুবির সেরা স্মৃতির মধ্যে একটা হয়ে থাকবে। ইফতার শেষে রাতের বেলা ঠান্ডা বাতাসে খুবির ফুলের সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে হেঁটে মনকে শান্ত করে দেয়। ঈদ কেটে গেলে এসব বিষয় মিস করবো।
শরিফা নাহার কবিতা
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
দীর্ঘ একমাসের রোজা শেষে ঈদ নিঃসন্দেহে আমাদের উৎসবমুখর করে তোলে। ঈদ বলতে আমার কাছে ছোটবেলার স্মৃতি, দুহাত রাঙানো মেহেদী,নতুন জামা প্রচুর ঘোরাঘুরি হলেও একটা দুশ্চিন্তা থেকে যায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে। আমরা সবাই আনন্দের সাথে সাবধানে চলাচল করার চেষ্টা করবো। ঈদ আনন্দ নিয়ে আসুক, দুর্ঘটনা নয়।
সানজিদা ইসলাম
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়