
বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের নামী নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হীরামান্ডি’ ওয়েব সিরিজটি কেবল পরিচালকের জন্যই নতুন যাত্রা নয়, এই কাজটি মনীষা কৈরালার জন্যও ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করার সময় বলিউড তারকা মনীষা কৈরালা তার জীবনের একটি সংগ্রামের সময় পার করছিলেন। ক্যান্সারজয়, বিবাহ বিচ্ছেদসহ বিষন্নতায় ভুগছিলেন তিনি। এসব সামলে সিরিজে নতুন করে নজর কেড়েছে তার অভিনীত ‘মল্লিকা জান’ চরিত্রটি।
চলতি মাসের ১ তারিখে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে হীরামান্ডি। এই সিরিজে অভিনয় করেছেন মনীষা কৈরালা, সোনাক্ষী সিনহা, অদিতি রাও হায়দারি, রিচা চাড্ডা, সানজিদা শেখ, শারমিন শেহগল। এরা সবাই পর্দায় এসেছেন সোনালি পোশাক আর গা ভর্তি গয়না নিয়ে।
ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, সিরিজটির শুটিংয়ের আগ দিয়ে সবেমাত্র ক্যান্সার থেকে সেরে উঠছিলেন মনীষা। তিনি বলেন, তখনও চিকিৎসা চলছিল। ক্যান্সার থেকে মুক্তি মিললেও আমার শরীর এবং মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। এখনও মাঝে মাঝে আমি বিষন্নতার মধ্যে দিয়ে যাই। হীরামান্ডির শুটিংয়ের সময়, বিষন্নতা আমাকে এতটাই গ্রাস করেছিল যে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতাম না। এই অভিনেত্রী জানিয়েছে, এর আগে ‘মল্লিকা জান’ চরিত্রটি করার জন্য অভিনেত্রী রেখাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
মনীষা বলেন, হীরামান্ডি দেখার পরে রেখাজি আমাকে ফোন করেন। তিনি আমাকে বললেন, প্রার্থনা করেছিলাম আমি যদি এই চরিত্রে অভিনয় না করতে পারি, তুমি অন্তত যেনো করতে পারো। দক্ষতার সঙ্গে এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছ তুমি। তুমি জীবনে অনেক কিছুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছ। এই চরিত্রে প্রাণের সঞ্চার করেছ তুমি।রেখা’র মতো একজন শিল্পীর কাছ থেকে প্রশংসা ও আশীর্বাদ পাওয়াটা বিরাট বড় ব্যাপার মনে করেন মনীষা।
জানা গেছে, আট পর্বের এই সিরিজ তৈরিতে বানসালির খরচ হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি রুপি। এই প্রথম কোনো ভারতীয় সিরিজের নির্মাণে এমন বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। পরাধীন ভারতে তিন প্রজন্মের গণিকাদের জীবনযাপনের কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘হীরামান্ডি’র চিত্রনাট্য। পরিচালক জানিয়েছেন, প্রায় ১৪ বছর ধরে বিষয়টা নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন। সিরিজটিতে আরও অভিনয় করেছে ফারদিন খান ও অধ্যয়ন সুমন।