
যবিপ্রতি প্রতিনিধিঃ আল আমিন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা তাদের একাডেমিক কার্যক্রম, প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যত ক্যারিয়ারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তাদের দাবীগুলো একসাথে তুলে ধরেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপাচার্যের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবী সম্বলিত একটি আবেদন পত্র উপাচার্যের কাছে পেশ করেন। পরবর্তীতে এই আবেদনটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যে, তাদের একাডেমিক কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষণ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের দাবীসমূহ:
১. ক্লাসরুম সংকট:
বর্তমানে ৭টি ব্যাচ অধ্যয়নরত থাকা সত্ত্বেও, বিভাগের কাছে মাত্র ৪টি ক্লাসরুম রয়েছে, যার কারণে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা উক্ত সংকট সমাধানের জন্য অব্যবহৃত ২য় তলার রুমগুলোকে ক্লাসরুম হিসেবে বরাদ্দের আবেদন করেছেন।
২. লাইব্রেরিতে বইয়ের অভাব:
ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বই এবং জার্নাল কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই এবং জার্নাল দ্রুত সংগ্রহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
৩. জেনারেটর এবং লিফট সুবিধা:
বিদ্যুৎ চলে গেলে বিভাগের ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যা তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এছাড়া, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রোগীদের সুবিধার্থে লিফট সেবা চালু করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
৪. শিক্ষক সংকট এবং ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্ট:
শিক্ষকের মারাত্মক সংকটের কারণে নিয়মিত থিওরি ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অক্টোবর মাস থেকে ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্ট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, শিক্ষক সংকটের কারণে সঠিকভাবে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সম্ভব হবে না বলে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা নতুন শিক্ষক নিয়োগ অথবা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন।
৫. ইন্টার্নশিপ ভাতা:
ইন্টার্নশিপ চলাকালে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই তারা ইন্টার্নশিপ ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি তাদের এই দাবী না মানা হয়, তাহলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।
৬. পরিবহন সুবিধা:
প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা যশোর মেডিকেল কলেজে যাতায়াতের জন্য বাস বা মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা না থাকার কারণে যাতায়াতে অনেক সমস্যায় পড়েন। তারা দ্রুত পরিবহন সুবিধার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবীগুলো পড়ে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মজিদ বলেছেন, “আমি শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো পড়েছি এবং এসব বিষয়ে আমি পূর্ণভাবে অবগত রয়েছি। সকল সমস্যার সমাধানে আমি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।”
তবে শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে প্রতিউত্তরে জানান, “আমাদের দাবীগুলো দ্রুত সমাধান না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো। আমরা উপাচার্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি এবং দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছি।”
ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই দাবীগুলো তাদের একাডেমিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি হতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপও বৃদ্ধি পাবে। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় কত দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধান করে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ সুগম করে দেয়।