
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের সখিপুরে নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙ্গেঁ নিচে চাপা পড়ে সাদিয়া(৯)নামের এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।জানা যায়,উপজেলার তক্তারচালা গ্রামের পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা জালাল উদ্দীনের নামে বিদ্যালয়ের পার্শ্বে নিজস্ব অর্থায়নে একটি ম্যুরাল তৈরি করছিলেন।সোমবার বিকেল ৬টার দিকে ওই শিশুটি নির্মাণাধীন ম্যুরালের দেয়ালের উপরে খেলা করছিল এসময় হঠাৎ দেয়াল ভেঙ্গেঁ শিশুটি দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে।পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এঘটনায় নিহত শিশুটির মা সন্তানের শোকে পাগলপ্রায়, তিনি বলেন আমার মেয়ে আমার চোখের সামনেই দেয়াল ভেঙ্গেঁ নিচে চাপা পড়ে মরে গেল আমি কিছুই করতে পারলামনা।আমি বারবার মেয়েকে ওই দেয়ালের উপর খেলতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু সে আমার কোন কথা শুনেনি।আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য আমি কাউকেই দায়ী করছিনা।নিহত শিশুটি মা অভিযোগ করে বলেন,আমার মেয়ের লাশ রাত ৩টার দিকে পুলিশ জোর করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে,আমি নিষেধ করেছিলাম,আমি বলেছিলাম আমার মেয়ের মৃত্যুতে আমরা কেউ বাদী না,তার পরেও আমার মেয়ের লাশ পুলিশ নিয়ে গেছে।শিশু শিক্ষার্থী সাদিয়া নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে।নিহত সাদিয়া ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।সে একই এলাকার প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।নিহত শিশুটির মায়ের অভিযোগের এবিষয়ে জানতে চাইলে,সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)আবুল কালাম ভুঞা বলেন,ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার এক এস আই আমাকে ফোন করে বলেন, ‘স্যার নিহতের পরিবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিতে চাচ্ছেনা আবার পরক্ষণেই ফোন করে জানালেন লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিতে সম্মতি দিয়েছেন।এখানে জোরের কোন বিষয় না,এছাড়া এখানে পুলিশেরতো ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই।ওখানে দূর্ঘটনায় একটি শিশু নিহত হয়েছে,পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাবে এটা পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া।ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।