
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি সেতুর নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছিল। এতে তাদের সন্দেহ হলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা রাতে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে সেতুর কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশুর বলেন, “মাইজখাড়ার ভেতরে যে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। সরকার এত টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, তাহলে সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে? এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, “সেতুর কাজ দিনে করার কথা থাকলেও তারা রাতে কাজ করছে। এলাকার ছেলেরা রাতে গিয়ে দেখে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কিছু বালু, সিমেন্ট ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।”
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, সেতুর কিছু অংশে শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় বাঁশ দিয়ে স্লাবের কাঠামো তৈরি করে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচার মতো তৈরি করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ কাজ।
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, “সেতুর নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।”
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নির্মাণাধীন সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজে অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।