
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:ফরহাদ হোসাইন
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৫২ নং দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ১৯ বছর ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। অথচ বিদ্যালয়ের ২৩৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬ জনই মুসলমান। মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম শিক্ষার ক্লাস নিতে হচ্ছে অমুসলিম শিক্ষকদের, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ে মোট ৬ জন হিন্দু শিক্ষক থাকলেও একজন রয়েছেন ডেপুটেশনে। ফলে বাকি ৫ জন শিক্ষক দিয়েই চলমান সব ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। ইসলাম শিক্ষা পড়াতে গিয়ে শিক্ষকরা আরবি উচ্চারণ, সূরা পাঠ, ব্যাকরণসহ ধর্মীয় বিষয়গুলো সঠিকভাবে শেখাতে পারছেন না। এতে ছাত্রদের ধর্মীয় শিক্ষায় বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।
ফলাফলে বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষায় ৭ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং সর্বশেষ বৃত্তি পরীক্ষায় ১ জন ট্যালেন্টপুল ও ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তবে মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ধর্মীয় শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া এখন এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অপূর্ব কুমার পাল বলেন, নতুন শিক্ষকরা এখানে যোগ দিতে চান না। কেউ যোগদান করলেও দ্রুত বদলি নিয়ে চলে যান। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার বলেন, নীতিমালায় ধর্মভিত্তিক পদায়নের নিয়ম নেই। তবুও জেলা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান খোঁজা হবে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ইসলাম শিক্ষার জন্য মুসলিম শিক্ষক থাকা খুবই প্রয়োজন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।