
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা শিবনাথপাড়া এলাকায় গৃহবধূ নাজমা আলম (৬১) হত্যা মামলার রহস্য ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটনের দাবি করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকার (কর্মকার)কেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত নাজমা আলম টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী শফিউল আলম শাহিন। দুই মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এবং এক ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করেন। ঘটনার সময় তিনি বাসায় একাই ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় ১৮ বছর ধরে এক ব্যক্তি নিয়মিত ওই বাড়িতে তিন বেলা খাবার খেতেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিনও নিহত নাজমা আলম নিজের হাতে ওই ব্যক্তিকে চা তৈরি করে দেন। পরে সুযোগ বুঝে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের উদ্দেশ্যে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত বাসা থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে লুট করা স্বর্ণ স্থানীয় এক কর্মকারের কাছে বিক্রি করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, ঘটনাস্থলের আলামত এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে লুট হওয়া স্বর্ণ কেনার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকারকেও আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে নাজমা আলমের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ তাঁর নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যার পেছনের সকল কারণ উদঘাটন করে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের এই দ্রুত অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করায় জেলা পুলিশের ভূমিকাকে অনেকে প্রশংসা করছেন।