
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তিন ইসরায়েলি জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ওই ভিডিওতে জিম্মিরা হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ এবং তাদের মুক্তির জন্য ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তবে ভিডিওটির তারিখ স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ৩৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে যে ইসরায়েলি জিম্মিদের দেখা গেছে তারা হলেন নোয়া আরগামনি (২৬), ইয়োসি শারাবি (৫৩) ও ইতাই সিভরস্কি (৩৮)। খবর-রয়টার্স
ভিডিওতে একটি ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে যাতে হামাস লিখেছে, ‘আগামীকাল তাদের ভাগ্যের বিষয়ে জানানো হবে।’
এর আগে নভেম্বরের শেষ দিকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দুইদিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর শেষ দিন ১৬ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। ৩০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তির বিনিময়ে ছাড়া পাওয়াদের মধ্যে ছিলেন ১০ জন ইসরায়েলি। বাকিরা বিদেশি নাগরিক। তবে দুই ইসরায়েলি-রাশিয়ান ও চারজন থাই নাগরিককে চুক্তির বাইরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সিএনএনকে বলেন, মুক্তি পাওয়া ১০ ইসরায়েলির মধ্যে একজন ডাচ দ্বৈত নাগরিক, তিনজন জার্মান দ্বৈত নাগরিক ও একজন আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক। এছাড়াও দুই রাশিয়ান নাগরিক ও চারজন থাই নাগরিককে চুক্তির কাঠামোর বাইরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। হামাসের এই হামলার জবাবে ওই দিনই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ১৬ অক্টোবর থেকে সেই অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।
১৪ অক্টোবর প্রথম বার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে রাশিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আপত্তির কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তার দুই দিন পর ১৬ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় মানবিক বিরতির আহ্বানের প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু রাশিয়া ও চীনের আপত্তির কারণে সেটিও বাতিল হয়ে যায়।
তবে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন প্রস্তাব বাতিল হলেও গাজায় যুদ্ধবিরতি কিংবা মানবিক বিরতির পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ। সেই সঙ্গে এই যুদ্ধের শুরু থেকেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছিল কাতার ও মিসর।