
মোহাম্মদ আব্দুন নুর রানা
ফরিদপুর সদর প্রতিনিধি
রমজান মাস লক্ষ্য ধরে ফরিদপুরে আবাদ হয় লালমি, তবে এ বছর শীত ও কুয়াশার কারণে সময়মতো ফলটি আবাদ করা যায়নি, আবার গাছও সময়মতো হয়নি, তাই লালমি উঠতে দেরি হয়েছে। এতে কিছুটা লোকসানে পড়তে হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।
কৃষি বিভাগ বলছে, লালমি দেখতে অনেকটা বাঙ্গির মতোই। তবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বাঙ্গির মতো গায়ে শির রেখা নেই। গায়ের রঙ ও গন্ধও আলাদা। স্বাদেও রয়েছে কিছু পার্থক্য। বাঙ্গি রবি মৌসুমের ফল। পাকতে শুরু করে চৈত্র মাসে। আর লালমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতের দুই মাস বাদে বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায়। রোপণের ৬০ দিনের মধ্যে লালমি পেকে যায়। তাই জেলার কৃষকেরা রমজান মাসকে লক্ষ্য রেখে চাষ করেন। রঙ, স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধ বিবেচনায় নিয়ে কৃষকই এর নাম রেখেছে লালমি। কৃষি বিভাগ এ ফসলের নামকরণসহ অধিক মূল্যায়ন ও উন্নয়নের জন্য গবেষণা শুরু করেছে।
লালমিচাষীরা জানান, এ বছর ৮০২ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে ৫৩২ হেক্টর জমিতেই চাষ হয়েছে লালমি। প্রতি বছর রোজার মাসকে লক্ষ্য রেখে তারা লালমি আবাদ করেন। আবহাওয়ার তারতম্যে কখনো রমজানের ১০-১৫ দিন আগে, আবার কখনো রমজানের শুরুতেই বাজারে আসে ফলটি। তখন ভালো দামও পাওয়া যায়। ছোট আকারের একটি লালমি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। আর মাঝারি থেকে বড় আকারের লালমি ৬০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। রমজানে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত ধরে লালমি চলে যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এ বছর লালমির অর্ধেক মূল্যও পাচ্ছেন না কৃষক। বিগত সময়ে যে লালমি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এ বছর তা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে না। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বাইরের জেলা থেকে পাইকারের সংখ্যাও কম। পাইকারি বাজারে এ বছর ছোট আকারের ১০০ পিস লালমি বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১ হাজার ২০০ টাকা। মাঝারিটা ১ হাজার ৫০০-১ হাজার ৬০০ এবং বড়টা ৩ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রমজান শেখ, মাকসুদ, নেছার, রোকসানাসহ কয়েকজন চাষী জানান, তারা প্রতি বছরই লালমি আবাদ করেন। তাদের লক্ষ্য থাকে রমজান মাসের শুরুতেই যেন লালমি তোলা যায়। কিন্তু এ বছর শীত ও কুয়াশার জন্য সময়মতো আবাদ করা যায়নি। আবার গাছও সময়মতো হয়নি। এজন্য এ বছর লালমি উঠতে দেরি হয়েছে।
ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোরের বাংলা নিউজ কে বলেন,লালমিকে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী ফল বলা যেতে পারে, কেননা এটি শুধু ফরিদপুরেই হয়। আশপাশের জেলায় কিছু আবাদ হলেও তা খুব কম। কৃষক রমজানকে লক্ষ্য রেখেই এর আবাদ করেন। এ বছর শীতের কারণে ফলন আসতে দেরি হয়েছে,এ কারণে কৃষককে হয়তো কিছুটা লোকসানে পড়তে হবে।