
মোহাম্মদ আব্দুন নুর রানা
ফরিদপুর সদর প্রতিনিধি
দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় নির্বাচনের আগের দিন ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শামসুল আলম চৌধুরীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস ও ওয়ার্ড কমিশনার গোলাম মোহাম্মদ নাসিরকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র দায়রা জজ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত আজ সোমবার এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শামসুল আলম চৌধুরী আনারস মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন এবং এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচনে মোট ছয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম বলেন, এই মামলায় সম্প্রতি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে আসামিরা অবগত হওয়ার পরেই তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। অমিতাভ বোস ও নাসিরকে জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে শামসুল আলম চৌধুরীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল একই আদালত ৪৬ আসামির বিরুদ্ধে সিআইডির দেওয়া সম্পূরক চার্জশিট গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে ৩৬ জন পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আগামি ৩০ মে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য রয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ওই ৩৬ আসামির মধ্যে এই তিনজনও ছিলেন। জানা যায়, দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে ২০২২ সালের ২২ জুন এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে আদালত মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।