
প্রতিনিধি চট্টগ্রাম জেলা।
প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৪ইং।
চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ড উপজেলার ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাএদলের সাবেক সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মোঃ আজম উদ্দিনের নেতৃত্বে ৫ নং ওয়ার্ড শাখার; অএ ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম সভাপতিত্বে এবং মোঃ ইলিয়াস (৫ নং ওয়ার্ড যুবদল সাধারণ সম্পাদক) এর পরিচালনায় ০৭ অক্টোবর ২০২৪ইং আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার সময় গোপ্তাখালী নতুন মার্কেট মাট প্রাঙ্গনে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সহ-সভাপতি (চ.বি) ছাত্রদল মোঃ আজম উদ্দিন, আরো উপস্থিত ছিলেন, ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আবু জাফর, ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী রাসেল, ৪নং মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরমান শাকিল,বিভিন্ন ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সেক্টরে আইনের শাসন, সব মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সরকারের অপকর্মের মদদদাতা কর্মকর্তাদের অপসারণ করে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। ফ্যাসিবাদীদের লুটপাট করা বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে।’ তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন যথাযথ অনুসন্ধান করে প্রকৃত সংখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরা এবং নিহতদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ‘অন্তর্বর্তী সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের এ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার জন্য ফ্যাসিবাদের দোসররা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এই বিজয়কে দুষ্কৃতকারীরা যেন নস্যাৎ করতে না পারে এজন্য দেশবাসীকে সোচ্চার থাকতে হবে এবং কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের ঐক্যকে আরও দৃঢ়তর এবং মজবুত করতে হবে। আমরা একটা ষড়যন্ত্রের মধ্যে সময় অতিবাহিত করছি। ’ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর দেশকে অর্থবহ স্থিতিশীল ও উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বৈষম্যহীন, সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্তা ব্যক্তিগণ, দলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশে যে নৈরাজ্যকর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।“নিজের থেকে পরিবর্তন শুরু করি, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করি, সত্যকে সত্য বলি, তবেই পরিবর্তন সম্ভব। ” দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, সীতাকুণ্ড মাটি ও মানুষের অহংকার লায়ন আসলাম চৌধুরী এফ.সি.এ উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দ্রুত দাবী জানাচ্ছি। তৃণমুল যুবদলকে সুসংগঠিত করার লক্ষে আজকের এই মতবিনিময় সভা। ত্যাগী, পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পান এবং যথাযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, দলকে সুসংগঠিত করতে হবে । শেখ হাসিনা তার শাসনামলে যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়িছাড়া করেছিল। অনেক নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সরকারের জুলুমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে রাজনৈতিক দলগুলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছে। আগামীতে জনসমর্থন নিয়ে যুবদল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণের পক্ষে কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন,১৯৭১ সালে দেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে অসহায় ফেলে, নিঃস্ব রেখে শেখ মজিবুর রহমান পাঞ্জাবি সৈন্যদের হাতে দেশের মানুষকে তুলে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা অসমাপ্ত রেখে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর সাময়িক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। আর আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের মানুষকে অস্ত্রধারী বাঙালীদের হাতে নিঃঅস্ত্র মানুষদেরকে রেখে ইন্ডিয়া পলায়ন করেছিল। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দল নয়। ঠিক তেমনি ২০২৪ সালেও এদেশের মানুষ যখন একটি গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি বিপ্লব সংগঠিত করলো শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের রেখে ভারতে পালিয়েছে। আওয়ামী লীগ হলো পালানোর দল, আওয়ামী লীগ হলো বিশ্বাসঘাতকের দল।