
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ ঃ প্রথম দিকে লোক সমাগম না হলেও সময় বাড়ার সাথে সাথে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায় বেড়েছে ক্রেতা দর্শনার্থীর সখ্যা। মেলায় দোকান সাজিয়ে বসেছেন রহিম শেখ। তিনি বলেণ, বৈরী আবহাওয়ায় প্রচন্ড শীতের কারণে প্রথম দিকে মানুষ না আসলেও এখন ছুদিও দিনগুলোতে লোকসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেচাবিক্রিও বেড়েছে। দিন দিন আরো বাড়বে আশা রাখি। শীত উপেক্ষা করে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার দ্বিতীয় শুক্রবার এমন দৃশ্য খো গেছে। সকাল থেকেই শীত উপেক্ষা করে অনেক ক্রেতা-দর্শনার্থী আসতে শুরু করেছেন। ঘুরে দেখছেন মেলা প্রাঙ্গণ।
শুক্রবার ঢাকার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) অনুষ্ঠিত ২৯তম আসর। সরজমিন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টায় গেট খোলার পরপরই মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে, দুপুরের পর তা জনারণ্যে পরিনত হয়। দর্শনার্থীরা জানান, প্রথম দিকে শুধু স্টল ঘুরে দেখার জন্য আসা, কেনাকাটা শুরু হবে মাঝামাঝি সময় থেকে।
মনি ইসলাম। একজন গৃহীনি। পুরো পরিবার নিয়ে বাণিজ্য মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, “ মাঝে মধ্যে সময় পেলেই মেলায় আসি। ঘুরতেছি, দেখতেছি। অন্য দিনের চেয়ে শুক্রবার দর্শনার্থী অনেক বেশি। দর্শনার্থী বেশি হওয়ায় টিকিট কেটে ভিতরে ডুকতেই অনেক সময় পার হয়ে গেছে। শেষ দিকে কুকারিজ ও প্রসাধনী সামগ্রি কিনব। স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে হলে ছেলে মেয়েদের জন্যও কিনব।”
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দ্বিতীয় শুক্রবার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রথম দিকে আশানুরূপ দর্শনার্থী না হলেও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বিশেষ করে শুক্রবার দিন দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলার ব্যবসায়ীরা বলেন, শুক্রবার মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু ক্রেতা বাড়েনি। সবাই শুধু দেখে আর সেলফি তুলে। একজন দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখনও পযন্ত যা চলছে তাতে এটা বাণিজ্য মেলা বলে মনে হচ্ছে না। এটা মনে হয় সেলফি মেলা।
ছুটির দিন উপচে পড়া ভিড়মেলায় প্রবেশের টিকিট ইজারাদার ইনফোটেক লিমিটেডের, হেড অফ অপারেশন এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবারের মেলাটা আরো বেশি জমজমাট। শীতের তীব্রতা কমলে দিন দিন দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৫ টাকা প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের প্রবেশ মূল্য দিতে হবে না। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। ছুটির দিন এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা।
বিআরটিসির ম্যানেজার অপারেশন মো. কামরুজ্জামান জানান, মেলায় শুক্রবার দর্শনার্থীর ভিড় বেশি। তাই কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসির ৮০টি স্পেশাল বাস চালু রয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে পাঁচটি বিআরটিসি শাটল বাস, নরসিংদী থেকে চারটি, ফার্মগেট খেজুরতলা থেকে ৩০টি দ্বিতল শাটল বাস চালু করা হয়েছে। যাত্রী বেশি হলে বাসের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। মেলা প্রাঙ্গণে ২০টি টিকিট কাউন্টার চালু রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব বিবেক সরকার বলেন, ‘আমাদের আন্তরিকতার সবটুকু দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে মেলা পরিচালনার চেষ্টা করছি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় মেলায় ভেতর ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার লোকজন মোতায়েন রয়েছে। বাড়তি নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।’
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, মেলায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদেস্যরা তৎপর রয়েছে।###