
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ ঃ রূপগঞ্জে সজিনা গাছে ধবধবে সাদা ফুলে ভরে গেছে। ডালের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফুল আর ফুল। এ সময় সজিনা গাছের পাতা ঝরে পড়ে। তাই পাতা শূন্য ডালে থোকা থোকা সাদা ফুলের শোভা দেখে সকলেই মহিত হয়। সজিনা বিশ্বের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি বৃক্ষ। অলৌকিক গাছ হিসাবে সজিনা পরিচিত। ইংরেজিতে সজিনার নাম ‘ড্রামস্ট্রিক’ যার অর্থ ঢোলের লাঠি। নামটি অদ্ভুত হলেও এটি এমনটি অতিপ্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী উদ্ভিদ। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল, ব্যাকল ও শিকড় সবই মানুষের উপকারে আসে।
সজিনার পুষ্টি গুণ অনেক বেশি। এ গাছের অনেক গুণ থাকায়, এ গাছকে যাদুর গাছ বলা হয়। কেউ কেউ একে ওষুধি গাছও বলে থাকেন। কাঁচা সবুজ পাতা রান্না করে, ভত্তা করে ও বড়া ভেজে খাওয়া যায়। ফল সবজির মতো রান্না করে খাওয়া যায়, ফল পাকলে সেসব ফলের বীজ বাদামের মতো ভেজে খাওয়া যায়। সজিনার পাতা, ফল, ফুল, বীজ, ছাল, মূলের ভেজষ গুণও আছে। তাই সজিনা গাছের বিভিন্ন অংশ ভেজষ চিকিৎসায় কাজে লাগে। সজিনার পাতার পুষ্টিগুণ বেশি, যেভাবে খাওয়া হোক না কেন তা শরীরে পুষ্টি যোগাবে, আর ওষুধি গুণ তো আছেই।
সজিনার পাতায় যে পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে তা অনেক পুষ্টিকর খাবারেও নেই। যেমন, ডিমের চেয়ে বেশি আমিষ, দুধের চেয়ে বেশি ক্যালশিয়াম, কমলার চেয়ে বেশি ভিটামিন সি, কলার চেয়ে বেশি ক্যালশিয়াম, গাজরের চেয়ে বেশি ভিটামিন এ আছে। তাছাড়া সজিনার পাতা গুঁড়ো করে খাওয়ায় অন্তত ১৬টি উপকারীর কথা জানা গেছে। উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ২১ হাজার সজিনা গাছ আছে। প্রতি বাড়িতে কমপক্ষে ৩/৪টি গাছ রয়েছে। এসব গাছ বাড়ির আশেপাশে ও খেতের আইলে লাগানো। গাছে ফলনও বেশি হয়। যতœ ছাড়াই এসব গাছ বেড়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২১ হাজার সজিনার ডাল রোপণ করা হয়েছে। দেশে ২টি জাত আছে সজিনা ও ভাজনা। সজিনার ফুল আসে জানুয়ারিতে আর ভাজনে ফল আসে মার্চ মাস থেকে। তবে সব ফুল থেকে ফল হয় না। একটি থোকায় সর্বাধিক ১৫০টির মতো ফুল ধরে। ফুল ৪০ সে. মি. থেকে ৮০ সে. মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফুল ফোটার ২ মাস পর ফল তোলা যায়। একটি বড় গাছে ৪শ থেকে ৫শ ফল ধরে। প্রতিটি ফলে ৩০-৪০টি বীজ হয়। দেশে সাধারণ ডাল কেটে ডাল রোপণ করে সজিনা গাছ লাগানো হয়। ভারত থেকে হাইব্রিড সজনের জাত এদেশে এসেছে। এ জাতের বীজ বপন করে লাগাতে হয়। হাইব্রিড জাতের সজিনা গাছে দু’বার ফুল আসে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ ও জুন-জুলাই মাস।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অলৌকিক গাছ সজিনা। ঠান্ডা-গরম, লবণ, খরা সহিষ্ণু এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। এ উপজেলার বেলে দো-আশ মাটিতে সজিনা আবাদ ভালোই হচ্ছে। উপজেলার প্রতি বাড়িতে কমবেশি ৫/৬টি করে সজিনা গাছ আছে। এ বছর সজিনা গাছে ব্যাপক ফুল ধরেছে। বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে সজিনার বাম্পার ফলন আশা করা যায়।###