
রানা ইস্কান্দার রহমান
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
বাড়ির মতো টয়লেটকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণে পৌরবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন গাইবান্ধা পৌর প্রশাসক এ.কে.এম হেদায়েতুল ইসলাম। গত ২৬ জুন ২০২৫, পৌরসভা কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত “শহর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি)” সভা ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট আলোচনায় তিনি পৌরবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান। তিনি জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী; যাদের টয়লেট নেই বা নির্মাণে সক্ষমতা নেই; তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণে পৌরসভা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সাথে কাজ করছে।
FANSA Bangladesh সচিবালয় এসকেএস ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত ‘Rising for Rights for Strengthening Civil Society Network to Achieve SDG 6’ প্রকল্পের সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পৌর প্রশাসক এ.কে.এম হেদায়েতুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বিপুল কুমার সাহা এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হানিফ সরদার।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ১০৪ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। তবে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণে বরাদ্দ আগের মতোই ১০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। নলকূপ স্থাপন ও পুনঃনির্মাণ খাতে বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে, আবর্জনা পরিষ্কারের উপকরণ ক্রয়ের বরাদ্দও ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
সভায় পৌরবাসীর পক্ষে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শহরের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের দাবি তোলা হয়। একইসঙ্গে, শহর পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা, বিশুদ্ধ পানি ও বাসস্থানের নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয়।
সভায় পৌর প্রশাসক বলেন, “নাগরিক সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শহর গড়া সম্ভব নয়। বদঅভ্যাস ত্যাগ করে সকলকে নিজের ও শহরের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।”
সভায় শহর সমন্বয় কমিটি (টিএলসি) এর সদস্য, পৌরসভার কার্যক্রম বাস্তাবয়ন কমিটি, FANSA BD সদস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, নারী ফোরামের সদস্য, ইয়ুথ ফোরাম, ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।