
রিয়া মনি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের ৯ বছরের শিশু ময়নাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় এখনো তদন্তে কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি। নির্মম এই হত্যাকাণ্ড দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সরাইল ও ঢাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নার বাবা-মা, চাচাসহ অন্তত ১০-১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রথমে আটক করা দুইজনকে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চতুর্থ আদালত) সামিউল হক মসজিদের ইমাম মো. হামিদুর রহমানকে তিন দিনের এবং মুয়াজ্জিন মো. সাইদুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিনে গাজী, রনি, জসিম ও আকাশ নামের চার যুবককে মাদক সেবনের অভিযোগে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু।
নিখোঁজের পরদিন ভোরে হাবলী পাড়ার মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ময়নার রক্তাক্ত ও বিবস্ত্র মরদেহ পাওয়া যায়। মসজিদের চাবি ছিল ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, তালাবদ্ধ মসজিদের ভিতরে খুনিরা কীভাবে ঢুকলো?
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মসজিদের পাশে একটি পরিত্যক্ত পাঠাগার ঘরে প্রায়ই মাদকসেবনের আড্ডা বসত। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন আকাশ নামের এক যুবক ইমামকে তালা না দিতে হুমকি দিয়েছিল। তবে তালা দেওয়া নিয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বক্তব্য একরকম নয়।
ময়নার বাবা আব্দুর রাজ্জাক এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “খুনি হয়তো আমার আশেপাশেই রয়েছে। আমার মেয়ের কোনো শত্রু ছিল না। জমি-জমা নিয়েও কোনো ঝামেলা নেই।”
এই কথাগুলো শোনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরকীয়ার মতো পারিবারিক কোনো কারণ থাকতে পারে। যদিও এখনো এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অতিমাত্রায় আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও, যেখানে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব, সেখানে সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কেন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অনেকে বলছেন, “যদি তারা সত্যিই অপরাধে জড়িত থাকতো, তাহলে তারা মসজিদেই থাকতো না, পালিয়ে যেত।” এ রকম নানা মতামত প্রকাশ পাচ্ছে এলাকায়।
সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) তপন সরকার বলেন, “ইমাম ও মুয়াজ্জিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। আমরা এখনো ময়না হত্যার ঘটনার কোনো ক্লু বের করতে পারিনি। আমাদের কাজ চলছে।”