
মোজাহিদ আরাবি // ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক—রামরাইল-সেন্দ এবং রামরাইল-মোহাম্মদপুর সড়কের অবস্থা বর্তমানে ভয়াবহ। খানাখন্দে ভরা এসব রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথ চলা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন অন্তত ২-৩টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। কখনো মটরসাইকেল, কখনো অটোরিকশা আবার কখনো যাত্রীবাহী গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। সড়কের ওপর জমে থাকা পানি আর গর্তের ভেতরে গাড়ি আটকে গিয়ে যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
অটোরিকশা চালকদের বক্তব্য ওরা প্রতিমাসে নিজেরা টাকা তুলে এই গর্ত গুলোতে ইট বালু মাটি ফেলে কোনো রকম গর্ত গুলো ভরে গাড়ি চলাচল করে। এই কাজে অনেক সময় এলাকার যুব সমাজও তাদের সহযোগিতা করে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৬-১৭ বছর ধরে এলাকাবাসী সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় প্রতি বছরই শোনা যায় “কাজ হবে”, “টেন্ডার হয়েছে”, কিংবা “অনুমোদন এসেছে”—কিন্তু বাস্তবে সেই কাজের দেখা মেলে না। গত ৭/৮ মাস আগে রাস্তার দুপাশে থাকা ৩০/৪০ বছরের পুরনো যত গাছ ছিলো সব গাছ কাটা হয়েছে রাস্তার কাজ ধরবে বলে, কিন্তু এখনও কাজের কোনো খবর নাই।
রামরাইল ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা জানান,
“আমরা তো এমন অভ্যস্ত হয়ে গেছি, মনে হয় রাস্তাঘাট খারাপ থাকাটাই নিয়তি। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নেওয়া যায় না ঠিক মতো।”
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সড়কগুলোর জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করে। নইলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যায়।