
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
অন্যায়ভাবে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ আটক রাখার অভিযোগে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) নিশাত এ্যঞ্জেলা, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) স্ত্রী কাজলী খাতুন।
বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কোনো কর্মকর্তাকে (পিবিআই) দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। মামলাটির নম্বর সি আর ১৩৫৩/২০২৫ ইং।
মামলার তৃতীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি ইসলামপুর এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তারেকুজ্জামান তুহিনকে (২৩), যিনি এসআই মনিরুজ্জামানের বোনের সাবেক স্বামীর মামাতো ভাই বলে জানা গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসি লাবনী জানান, বাদীর স্বামী এসআই মনিরুজ্জামান তখন গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। এক আত্মীয়ের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে এসপি অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও থানায় থাকা ল্যাপটপ আটক রাখা হয়। পরে কোনো প্রতিকার না পেয়ে কাজলী খাতুন আদালতের আশ্রয় নেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ মার্চ ওসি শাহিনুর ইসলাম ফোন করে এসআই মনিরুজ্জামানকে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ সুপার নিশাত এ্যঞ্জেলার কার্যালয়ে হাজির হতে বলেন। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন ও থানার ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিভাইস দুটি ওসির কাছে আটক রাখা হয়।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, “মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মনিরুজ্জামানকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। সেখানে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ অনুসন্ধানের জন্য ঢাকায় সিআইডিতে পাঠানো হয়। আমাদের বিরুদ্ধে করা মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সদর কোর্টের জিআরও শ্রী গোবিন্দ মামলাটি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।