
কোটচাঁদপুর প্রতিনিধিঃ
কোটচাঁদপুরের আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। গত ৪ ডিসেম্বর বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও চক্রান্তমূলক’ বলে দাবি করেন আব্দুর রহিম। রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহিম বলেন, আমার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই একটি চক্র এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি জানান, তার বাড়ি কোটচাঁদপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামে হলেও তিনি ঢাকা উত্তরায় ‘ইকোটেক এনার্জি লিমিটেড’-এ কোনো কর্মচারী নন; বরং তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের একজন পার্টনার। ২০১৯ সালে আব্দুর রহিম, হাফিজুর রহমান ও আসাদুজ্জামান মিলে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভালো অবস্থানে যাওয়ার পর হাফিজুর রহমান কৌশলে বড় ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে গোপনে কোম্পানির সকল কাগজপত্র ও ব্যাংক হিসাব নিজের নামে করে নেন। ২০২২ সালের ২২ জুন কোম্পানির হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টা করলে মালিকানাকে ঘিরে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে।
আব্দুর রহিম আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হাফিজুর রহমান তার ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামানের শেয়ার ফেরত না দিয়েই কোম্পানির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন, এতে তার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। পরে তাকে চাপে রাখতে জোরপূর্বক ৩টি চেক নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২টি চেকের টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন এবং একটি চেকের ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ টাকা প্রদানের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান।
তিনি বলেন, ওই ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ টাকার বাইরে ইকোটেক এনার্জি লিমিটেড বা তাদের কারো কাছে আমার আর কোনো টাকা বাকি নেই।”
বর্তমানে তিনি পূর্বের পার্টনার আসাদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কম্প্যাক্ট এনার্জি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাদের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানান এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইকোটেক এনার্জি লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন,
তার কাছে আমাদের টাকা পাওনা আছে। টাকা না দেওয়ায় আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।