
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একটি একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল সদৃশ বস্তু, রাসায়নিক দ্রব্য, ল্যাপটপ ও মনিটর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল–আমিন এখনো পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসা ভবনের দুটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণে ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়, দেয়াল ও ছাদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যায়। পাশের একটি ভবনও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারপাশে দেয়াল ও কাঁচের টুকরা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে র্যাব, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তে নামে।
বিস্ফোরণে মাদ্রাসা পরিচালক শেখ আল–আমিনের তিন সন্তানের মধ্যে উমায়ের (১০), আব্দুর রহমান (২) ও রাবেয়া (৬) আহত হয়। এ ছাড়া পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজের শ্রমিক ও সিএনজি চালক জাকির হোসেন (৪৫) গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের সময় ইটের মতো একটি বস্তু এসে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এতে মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আহতদের প্রথমে স্থানীয় আদ–দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অন্তত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভবনের মালিক পারভিন বেগম জানান, ২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য ভবনটি ভাড়া নেন। প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে মাদ্রাসার কার্যক্রম চলছিল। শেখ আল–আমিন ও তাঁর স্ত্রী আছিয়া সেখানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মুফতি হারুন মাঝে মাঝে মাদ্রাসায় যাতায়াত করতেন।
পুলিশ জানায়, শেখ আল–আমিন ২০২২ সাল থেকে ভবনের দুটি কক্ষে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছিলেন। একই ভবনের অন্য দুটি কক্ষে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে লালা জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য, চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু, মাপার যন্ত্র, একটি ল্যাপটপ ও দুটি মনিটর উদ্ধার করা হয়। এসব আলামত পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর শেখ আল–আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮)–কে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার (৩০)–কে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট এলাকা থেকে এবং শেখ আল–আমিনের সহযোগী আসমানী খাতুন ওরফে আসমা (৩৪)–কে ঢাকার বাসাবো এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শেখ আল–আমিন সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এসপি মিজানুর রহমান আরও জানান, শেখ আল–আমিন এর আগে ২০১৭ ও ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসমানী খাতুনের নামেও দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস দক্ষিণ) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
