
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পারলাট গ্রামের পারলাট বিলে জোরপূর্বক দখল ও বিপুল পরিমাণ মাছ লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আলতাফ হোসেন। সোমবার (১ মার্চ) স্থানীয় কোটচাঁদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে একটি সংঘবদ্ধ দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে তার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল ও প্রায় ২৩ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে আলতাফ হোসেন জানান, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে পারলাট গ্রামের চিহ্নিত কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার মালিকানাধীন পারলাট বিলের ডোবা জমিতে হামলা চালায়। জমিটির পরিচয়—মৌজা নং ৪৭, সি.এস-০৩, এস.এ-০৪ খতিয়ানভুক্ত সাবেক দাগ নং ৫৩১, আর.এস-২৭২ খতিয়ানভুক্ত, হাল-৪৬ দাগের ১৩.৫৬ শতক জমি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। দেড় বছর ধরে পরিচর্যায় বড় করা রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাস কার্প ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা এবং দেশি প্রজাতির মাছের মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকার মাছ জোরপূর্বক লুট করা হয়েছে বলে তার দাবি।
এছাড়া মাছের খাদ্য হিসেবে মজুদ রাখা খৈল, ৩৫ বস্তা ফিড (মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ২৫০ টাকা) ও ১৫ বস্তা পালিশ (মূল্য প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা) লুট করে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেন পারলাট গ্রামের সবুজ, লিটন খান, আব্দুল আলীম, আবুল হোসেনসহ নামধারী ২৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে লুটতরাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনেন। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় তাকে ও তার সহযোগীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এলাকার বহু মানুষ ও তার নিয়োজিত পাহারাদাররা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি ঝিনাইদহের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা, দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণসহ ন্যায্য বিচার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে আলতাফ হোসেন বলেন, আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের মাধ্যমে আমার অধিকার ফিরে পেতে চাই।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত সবুজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বিলটি টিওনো অফিস থেকে লিজ নিয়ে বিশ্বনাথ নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী মাছ চাষ করতেন। তবে তিনি মাছ চাষ করতে না পেরে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে বিচার প্রার্থনা করেন। পরে বিষয়টি তার কাছে এলে তিনি বিলটি দখলমুক্ত করে দেন বলে দাবি করেন সবুজ।
তবে বিশ্বনাথ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন আইনের মাধ্যমে যদি তিনি ওই বিলে মাছ চাষের অনুমতি পান, তাহলে আপনারা বিল দেখাশোনা করে দেবেন। কিন্তু কেউ যদি অতিরঞ্জিত করে দখল বা লুটপাট করে থাকে, তার দায় আমার নয়।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।