
খুবি প্রতিনিধি :
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে কোনো ছুটি রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নেই কোনো স্থায়ী গির্জা বা উপাসনালয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খ্রিস্টান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ০৫ এপ্রিল (রবিবার) ইস্টার সানডেতে খুবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলমান ছিল। তবে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওই দিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য নেই কোন উপাসনালয়। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে তারা প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়ছেন। প্রার্থনার জন্য তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ।
ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আনসিকা স্নিগ্ধা চিরান (গারো) বলেন, “আমাদের জন্য ক্যাম্পাসে কোনো গির্জা নেই। ধর্মীয় দিনগুলোতেও ক্লাস বন্ধ থাকে না। প্রার্থনার জন্য আমাকে রূপসা সেতু পর্যন্ত যেতে হয়। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এলেক্স নিলয় বিশ্বাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “খ্রিস্টানদের জন্য ইস্টার বড়দিনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই দিনে ছুটি না দিয়ে উল্টো পরীক্ষা রাখা হয়েছে। গত বছরও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। এটি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অসম্মান।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো পালনের সুযোগ নেই। আমরা চাই, অন্তত এসব দিনে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হোক, যাতে আমরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, “ইস্টার সানডে উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছুটি থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক একাডেমিক ক্যালেন্ডারে এ দিনের জন্য ছুটি নির্ধারিত নেই। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম চলবে। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেকেই নিজ নিজ আচার অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীন, এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।”