
ভোরের বাংলা নিউজ ডেস্ক
ব্যাবিলনের শূন্য/ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon) ছিল পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের (Seven Wonders of the Ancient World) মধ্যে একটি। সেই উদ্যান ছিল রঙিন ফুলের উদ্যান। পাখি আর প্রজাপতি সেখানে উড়ে বেড়াত সারাক্ষণ। মনোহর সেই উদ্যানটিকে অত্যাশ্চর্য উদ্যান বলা হতো শুধু একটি কারণে, আর তা হলো- উদ্যানটিকে দূর থেকে দেখে মনে হতো হাওয়ায় ভাসছে।
ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যানের বর্ণনায় বলা হয়েছে, সম্রাট নেবুচাদের এই হাওয়ায় ভাসমান শূন্য উদ্যানটির চূড়ায় অসংখ্য সিঁড়ি বেয়ে যেতে হতো। প্রতিটি সিঁড়িতে আঁকাবাঁকা ধাপে লাগানো হয়েছিল অসংখ্য ফুলের গাছ। সিঁড়িগুলোর প্রতি ধাপে এভাবে গাছ লাগানোর ফলে বিশাল বাগানে পরিণত হয়েছিল।
অধিকাংশ ইতিহাসবিদ এবং সাহিত্যিক একমত হয়েছেন যে, ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে খ্রীস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে তৎকালীন ব্যাবিলনের সম্রাট “নেবুচাদনেজার” তার সম্রাজ্ঞীর প্রেরণায় এটি নির্মাণ করেন। সম্রাট নেবুচাদনেজার ছিলেন ভীষণ আমুদে স্বভাবের। নিনেভে দখল করার সময় মিডিয়ান সম্রাট তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। মিডিয়ান রাজকন্যার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রাজকন্যা হলেন ব্যাবিলনের সম্রাজ্ঞী। কিন্তু ব্যাবিলনের সম্রাজ্ঞীর আদৌ ভালো লাগত না, কারণ মিডিয়া ছিলো পাহাড় পর্বতের দেশ। আর ব্যাবিলন ছিল সমতল ভুমি।
সম্রাজ্ঞী পাহাড়ি দৃশ্যের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়লেন। সম্রাট সম্রাজ্ঞীর মনের কথা বুঝতে পেরে তাঁকে খুশী করতে প্রাসাদের ওপর বিশাল পাহাড় তৈরি করেন। পাহাড়ের সঙ্গে তৈরি হলো মনোরম উদ্যান। সারা পৃথিবী থেকে চমৎকার সব উদ্ভিদ আর ফুল এনে সাজিয়ে দেয়া হলো বিশ্ববিখ্যাত এই উদ্যান। কারণ তিনি চেয়েছিলেন, পৃথিবীর সব আনন্দ আর সুখের সম্রাজ্ঞীর জন্য ভালোবাসার প্রতীক অঙ্কন করতে।ঝুলন্ত এই উদ্যানটির বিশালতায় অবাক হতে হয়।
প্রথমে নির্মাণ করা হয় বিশাল এক ভিত, যার আয়তন ছিল ৮০০ বর্গফুট। ভিতটিকে স্থাপন করা হয় সম্রাটের খাস উপাসনালয়ের সুবিস্তৃত ছাদে। ভিত্তি স্থাপন করার পর মাটি থেকে এর উচ্চতা দাড়িয়েছিল ৮০ ফুট। এই ভিত্তির উপরেই নির্মিত হয়েছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং বিস্ময়কর পুস্পবাগান। ৪ হাজার শ্রমিক রাতদিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছিলো এই উদ্যান।
উদ্যান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত ছিল ১ হাজার ৫০ জন মালী। ৫ থেকে ৬ হাজার প্রকার ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত উদ্যানে। ৮০ ফুট উচুতে অবস্থিত উদ্যানের সুউচ্চ ধাপগুলোতে নদী থেকে মোটা পেঁচানো নলের সাহায্যে প্রতিদিন প্রায় বিরাশি হাজার গ্যালন পানি উঠানো হতো।
৫১৪ খ্রিস্টাব্দে পার্শ্ববর্তী পারস্য রাজ্যের (বর্তমান ইরানের) রাজার সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয় সম্রাট নেবুচাদনেজারের। আর এই যুদ্ধেই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় আশ্চর্য সুন্দর ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান।।