
রানা ইস্কান্দার রহমান।
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল আজ চরম সংকটে নাকাল। অবকাঠামো ও জনবল রয়েছে মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালের সমপরিমাণ, অথচ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন জেলার সাত উপজেলার হাজারো মানুষ। ফলে রোগীরা প্রতিদিনই পড়ছেন ভোগান্তিতে।
হাসপাতালজুড়ে নোংরা পরিবেশ, পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম এবং ভর্তি রোগীদের অযত্ন নিয়ে উঠছে একের পর এক অভিযোগ। অথচ প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী আউটডোরে এবং প্রায় ৩০০ রোগী ইনডোর বিভাগে চিকিৎসা নেন।
রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করছেন, সকাল থেকে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ালেও নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া যায় না। অনেক সময় চিকিৎসক না আসায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ তালিকায় থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। আবার যে ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়, সেটিও কম পরিমাণে মেলে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় লাইন ধরে টিকিট পেলেও চিকিৎসক না আসায় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়েছে। অন্য কোথাও ডাক্তার দেখানোর মতো সামর্থ্যও নেই।
ভর্তি রোগীদেরও অবস্থা করুণ। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় বারান্দায় গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। পলাশবাড়ীর লাবনী বেগম অভিযোগ করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আমার চাচি দুই দিন ধরে ভর্তি আছেন। জরুরি বিভাগে একবার দেখেছে, এরপর আর কোনো চিকিৎসক আসেননি। তিনি ব্যথায় কাতরাচ্ছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ রহমান বলেন, এ হাসপাতাল চালানো হচ্ছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে। অথচ ৫০ শয্যার যে চিকিৎসক ও কর্মী থাকার কথা, তাও নেই অর্ধেক। ফলে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের এ দুরবস্থায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।