
এ এ এইচ সিয়াম, প্রতিনিধি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় :
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই যোদ্ধা ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আজিজুল ইসলাম আজিজ এর বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বাধাদানের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আশিকুর রহমান। ঘটনার জানাজানি হলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান জনির নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আজিজুল ইসলাম।
জুলাই আন্দোলনের একজন সম্মুখ যোদ্ধার বিরুদ্ধে এরকম হয়রানিমূলক মামলায় বিস্মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে জেনাস ভৌমিক নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, “যারা নিরপরাধ তারা হয়রানির শিকার হলো আর যারা প্রকৃত অপরাধী তারা এসব কারনে রক্ষা পেয়ে যাবে । সরকার এবং পুলিশের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে ঢালাও মামলার বিরুদ্ধে। এর প্রতিকার সহজেই পাবে। প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক।”
কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়া এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং মিথ্যা মামলা অতিদ্রুত প্রত্যাহার চেয়ে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা আজিজুল ইসলাম আজিজ বলেন, “ছাত্রলীগের মামলার সাথে আমাকে জরানো সম্পর্কে জানি না কিসের উপর ভিত্তি করে এখানে আমার নাম দিয়েছে। তবে উনাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না জানিও না।
জুলাই আন্দোলন যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ১ম দিন থেকে শেষ পর্যন্ত আন্দোলন করে গেছি। ক্যাম্পাসে কেউ ভয়ে পোস্ট করতে পারে না আমার আইডি দিয়ে পোস্ট ও করেছি। সেখানে আজ আমাকে ছাত্রলীগের কর্মী বানিয়ে মামলা করা হয়েছে। এটা কোন উদ্দেশ্যে করা হল? জানি না কোন উদ্দেশ্যে নিয়ে আমার নামেও মামলা করা হল! এধরণের মিথ্যা মামলা থেকে অতিদ্রুত প্রত্যাহার চাই।”
এ ঘটনায় মামলাকারী ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যায় নি।
উল্লেখ্য যে, গত ৪ মে রোববার,মেময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ(দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ সংশোধনী /২০১৪ এর ৪/৫ ধারায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলা বিভাগের প্রথম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ২১০ জন শিক্ষক,কর্মকর্তা ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। একই দিন সন্ধ্যায় বিচারক মোছা. নাসিমা খাতুন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। উক্ত মামলায় আজিজুল ইসলাম কে ৭১ নাম্বার আসামী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।