
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইল সদর থানার দুটি পৃথক আলোচিত হত্যা মামলায় পলাতক সন্দিগ্ধ আসামী লেবু মিয়া (৩৫)–কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের আভিযানিক দল। বুধবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোস্তাক আহমেদ রানা (৪৫) পেশায় একজন ঠিকাদার এবং পল্লী বিদ্যুৎ টাঙ্গাইল অফিসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। ঠিকাদারি ব্যবসা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলছিল।
২০২৫ সালের ২৬ মে সকালে অফিসের কাজ শেষে ফেরার পথে বেলটিয়া মোড়ে পৌঁছালে মুখোশধারী ৭–৮ জন আসামি তার পথরোধ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নুর হাসিয়া খান টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা নং-৩৬, তারিখ ২৬ মে ২০২৫, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩৬০/৫০৬/৩৪ সংযুক্ত ৩০২–এ মামলা দায়ের করেন।
ধৃত আসামী লেবু মিয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুইজবারি এলাকার লেগুন বেকারি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত নারী শ্রমিক লিলি আক্তার (৪০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা নং–২২, তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ধারা ৩০২/৩৪–এ আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
দুটি হত্যা মামলা রুজুর পর থেকেই র্যাব-১৪ আসামীদের ধরতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দুই মামলার পলাতক সন্দিগ্ধ আসামী লেবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত লেবু মিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।