
টেকনাফ, (কক্সবাজার)।
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলায় যৌতুকের জন্য মারধর ও বিদ্যুতের শর্ক দিয়ে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার ভোররাত চারটার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড রোজারঘোনা এলাকার শশুর বাড়ি থেকে নিহত লুলওয়াল মরজান হিরা মনির লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লুলু ওয়াল মরজান হিরামনি(১৭) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড পূর্ব সিকদারপাড়া এলাকার মাস্টার মীর কাশেমের মেয়ে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকে পাঁচলাখ টাকা যৌতুক দাবি করায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে মারধর করে বিদ্যুতের শর্ক দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে শশুর বাড়ির লোকজন।
এদিকে লাশ গোসল দেয়ার সময় উপস্থিত গোসল দাতা মহিলাদের বরাত দিয়ে মারধরের নানা আঘাতের পাশাপাশি পায়ে বিদ্যুতের শর্ক দেয়ার মত একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেইজবুক সহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করে দোষী নরপিশাচ স্বামী আব্বাসউদ্দীন কে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবী উঠেছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা নিয়ে এলাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন নির্যাতন করেওই গৃহবধূকে হত্যা করেছে।
হত্যার পর বিষয়টিকে তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন স্বামীর পরিবারের লোকজন।
উল্লেখ্য যে,স্বামীর মারধর ও বিদ্যুতের শর্কদিয়ে নির্যাতনে নিহত লুলুওয়াল মরজানের পৈত্রিক পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,হ্নীলার মৌলভীবাজার রোজারঘোনা এলাকার নুর আহাম্মদের ছেলে আব্বাস উদ্দিনের (২২) সঙ্গে একই ইউনিয়নের হ্নীলাপূর্ব সিকদারপাড়ার মাস্টার মীর কাশেমের মেয়ে লুলুয়ান মরজান হিরামনির (১৭) প্রেমের সম্পক ছিল।
একপর্যায়ে পরিবারের অজান্তে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তারা দুইজন পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী আব্বাসউদ্দিন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কয়েকবার ঝগড়াও হয়। এর জেরে মঙ্গলবার রাতেস্বামী আব্বাস লুলুওয়াল মরজানকে মারধর সহ নানা নির্যাতন করেন। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের মেঝ বোন আফরোজা আক্তার বলেন, স্বামীসহ শশুর বাড়ি লোকজন মিলে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও মারধর করে মরজানকে হত্যা করেছে। এখন তারা বাঁচার জন্য আত্মহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেয়ার পায়ঁতারা করছে।এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।
মরজানের দুলাভাই নুরুল ইসলাম বলেন,‘মঙ্গলবার গভীর রাতে আব্বাসের বড় ভাই আমাকে ফোন দেয়। সে জানায় আমার শ্যালিকা আত্মহত্যা করেছেন। এরপর আজ বুধবার ভোররাতে নিহতের শশুর বাড়ি থেকে মরজানের লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ আজ বুধবার ভোররাতে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। এরপর শশুর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’###