
বুটেক্স প্রতিনিধি
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পকে বলা হয় বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ শিল্পটির সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। দিন দিন ক্রমেই বেড়ে চলেছে শিল্পটির পরিধি। আর এই শিল্পের ক্রম বৃদ্ধিতে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এর ভূমিকা সর্বাধিক।
টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কি?
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল শাখা যেখানে তন্তু, সুতা, কাপড় ও তৈরি পোশাকের নকশা, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা ও কাজ করা হয়। আজকের বিশ্বে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু পোশাকশিল্পেই সীমিত নয়; এটি মেডিকেল টেক্সটাইল, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্মার্ট টেক্সটাইল এবং ন্যানো-টেক্সটাইলসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে প্রসার লাভ করছে। প্রতি নিয়ত নতুন ক্ষেত্রে টেক্সটাইলের অবদান ক্রমেই বৃদ্ধি করছে এর প্রয়োগ ক্ষেত্র।
বাংলাদেশের জন্য টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আমাদের দেশের বিপুল সংখ্যক জনশক্তির জন্য টেক্সটাইল আশীর্বাদ স্বরুপ। প্রতিযোগীতামূলক বিশ্ববাজারে এই শিল্পে নিজেদের অবস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজন পন্যে বৈচিত্র্য এবং নতুন পন্যের উদ্ভাবনী শক্তি। এইসব দিকে দৃষ্টি রেখেই দেশে বাড়ছে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এর চাহিদা।
টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এবং উচ্চ শিক্ষা:
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), বুটেক্স অধিভুক্ত ১০টি সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিইউএফটিসহ অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং নিয়ে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অভিমত :
টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং নিয়ে কেন পড়া উচিত এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহ মাশরুর আহমেদ বলেন, টেক্সটাইল বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বৃহত্তম ও সম্ভাবনাময় খাত। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ আসে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস থেকে। সবচেয়ে বড় কথা এই সেক্টরে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা অনেক। তাই আমি বিশ্বাস করি এই বিষয় পড়ার মাধ্যমে আমি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারব।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তানবীরুল ইসলাম জীয়ান বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং মানে মূলত বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খোঁজার একটা প্রক্রিয়া। তাই এই খাতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে একজন ইঞ্জিনিয়ার শুধু শিল্পের উন্নয়ন নয়, মানুষের জীবনের মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। এই কারণেই আমি মনে করি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া মানে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া—একজন সমস্যার সমাধানকারী, একজন উদ্ভাবক, আর একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বুটেক্স-এর ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহাগ বাবু বলেন, বাংলাদেশে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু একটি বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত একটি শিক্ষাক্ষেত্র। অনেক বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, জাপান ও চীনের মতো দেশের কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছেন। শুধু চাকরি নয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। যার ফলে বাংলাদেশে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা তুলনামূলকভাবে দ্রুত আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করতে পারেন।
টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি বিদ্যা ও পেশা যা শুধু কাপড় বা পোশাক উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের জীবনযাত্রাকে আরও আরামদায়ক, সৃজনশীল ও টেকসই করে তুলছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাকশিল্পে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান অনস্বীকার্য। ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে মেডিকেল টেক্সটাইল, স্মার্ট টেক্সটাইল, ন্যানো টেক্সটাইলসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে এই শাখার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বলা যায়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, বরং জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।