
রফিকুল ইসলাম , নিকলী (কিশোরগঞ্জ):
সাম্প্রতিক দাখিল পরীক্ষায় কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার কুর্শা গ্রামের ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী আছিয়া আক্তার (১৬) পিতা মৃত আক্কাস আলী মাতা মোছা: হোসনা আক্তার গ্রাম: ধারীশ্বর, জারইতলা, নিকলী, কিশোরগঞ্জ। উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে আলোচনায় আসেন। কঠিন দারিদ্র্য, পিতৃহীন অবস্থা এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার সত্ত্বেও তার এই অর্জন উপজেলার মানুষকে অভিভূত করেছে।
তার এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আজ ২১ জুন, সোমবার আলতাফ নিসা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাদ্রাসার হলরুমে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ রেহানা মজুমদার মুক্তি।
অনুষ্ঠানে আছিয়ার হাতে একটি সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট ও একটি ল্যাপটপ তুলে দেন ইউএনও মুক্তি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার আরাধন কুমার দেব, মাদ্রাসার পরিচালকসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আছিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি আমার জীবনের কষ্ট আর সংগ্রামের কথা এত মানুষ জানবে। এই ভালোবাসা আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেবে। আমি চাই, বড় হয়ে আমিও মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”
মায়ের চোখেও ছিল আনন্দ আর বিস্ময়ের অশ্রু। তিনি বলেন,
“আজকের দিনটি আমার জীবনে সবচেয়ে খুশির দিন। ভাবতেও পারিনি আমার মেয়ে এমন একটি দিন উপহার দেবে। আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু আমার মেয়ের চেষ্টা ও অধ্যবসায়ে আজ সে যা অর্জন করেছে, তা আমাদের সকলের জন্য গর্বের। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন, এবং যারা আমাদের পাশে ছিলেন তাদের জন্য আমি আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান চাই।”
আলতাফ নিসা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম রুবেল বলেন,
“আছিয়া পিতৃহীন এবং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও তার সাহস ও অধ্যবসায় আমাদের মুগ্ধ করেছে। তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৬ সাল থেকে পড়াশোনার সমস্ত খরচ আমরা বহন করে আসছি এবং এখন থেকে আমরা তার পুরো শিক্ষাজীবনের ব্যয় ও তার পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।”
এই অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করে, প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফল্য অর্জন সম্ভব—যদি থাকে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও সামান্য সহানুভূতির স্পর্শ।