
সাইজ জানতে চাওয়ায় কী করেছিলেন অনন্যা ?
বিনোদন ডেস্ক
টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্টিতে হেনস্থার ঘটনা, মিটু – র অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রায়শ এমন অভিযোগ ওঠে। এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বললেন ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী কলকাতার অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। আরজি কাণ্ডের ঠিক পরপর টলিপাড়ায় ‘মি – টু’র অভিযোগে সরব হয়েছিলেন বহু অভিনেত্রী। এমনকী কিছুদিন আগে পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। এরই মাঝে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি।
জানা গেছে, অনন্যা’র সঙ্গে এমন ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেনি। এটি ঘটেছিল তার অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে। কিন্তু কী ঘটেছিল ? কলকাতার একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্যা চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি যখন অভিনয় দুনিয়ায় পা রাখেন, তখন তার বয়স ছিল খুবই কম। মাত্র ১৯ বছর বয়স তখন তার। যদিও অভিনয় নিয়ে তার যে খুব যে বেশি আগ্রহ ছিল – তেমনটা নয় বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে যে পরিচালকের সঙ্গে তিনি সেসময় কাজ করেছিলেন, তাকে সকলেই ভীষণ সম্মান করতেন। একবার অনন্যাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন প্রযোজক। অভিনেত্রী বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করতে যান।
অনন্যা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি যখন প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করতে কনফারেন্স রুমে ঢোকেন, তখন ওই ঘরটি ছিল ফাঁকা। সেখানে কেউ ছিল না। অনন্যা বলেন, উনি আমায় প্রশ্ন করেন তোমার vital statistics কত ? (শরীরের মাপ বোঝাতে) আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, কেনো বলুন তো? উনি বলেন, তোমায় স্ক্রিনে কেমন দেখাবে সেটা জানতে চাই।
এর উত্তরে কী বলেছিলেন অনন্যা জানেন ? তিনি তখন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বড় পরিচালক – প্রযোজক হয়েও যদি তাঁক পর্দায় মানাবে কিনা না বোঝেন, তাহলে তার পরিচালক হওয়াই উচিত নয়। আর এরপরই নাকি সেই পরিচালক রেগে গিয়ে জোরে জোরে চেঁচিয়ে বলতে থাকেন, তুমি জানো আমি কে ? আমি অমুকের তমুকের সাইজ জানি।
তবে অনন্যাও না জবাব না দেওয়ার পাত্রী নন! তিনি জানিয়েছিলেন, এই ঘর থেকে বের হওয়ার পর বুঝবেন আমি কে ? অনন্যা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ইন্ডাস্ট্রির এক বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে খুলে বলেছিলেন। তবে এরপরই বিষয়টি অনেকেই জেনে যান। পরে অবশ্য ওই পরিচালক – প্রযোজক ফোন করে অনন্যা ও তার বাবা – মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।