
শেখ ফয়সাল আহমেদ
এদেশের প্রতিটা ক্লান্তিলগ্নে তরুণরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রতিবার, দেশের যেকোনো দুর্যোগে তরুণরা বসে থাকে নি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এ দেশের তরুণরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দিয়েছিল অকাতরে বিলিয়ে প্রাণ দেশের জন্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এদেশের তরুন শিক্ষার্থীরাই বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং শেষ পর্যন্ত এনেছিল বিজয়, তরুণদের চোখে স্বপ্ন একটি সুন্দর বেকারবিহীন আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত তরুণ শিক্ষার্থীরা কাজ করছে।
সম্প্রতি এক ঝাঁক গান পাগল দেশ প্রেমিক তরুণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্লোগান নিয়ে আহ্বান আত্মপ্রকাশ করেছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে দেখা যায় বিকেল থেকে উন্মুক্ত মঞ্চে গান গাইছে কিছু তরুণ যে কেউ এসে অংশগ্রহণ করতে পারছে গান গাইতে পারছে নেই কোন বিধি-নিষেধ মানুষের মনের আনন্দের খোরাক যোগাচ্ছে, গানের মাধ্যমে সেতু বন্ধন তৈরি করছে,আবার সামনেই রয়েছে ফ্লাক্স ভর্তি চা গানের বিনিময়ে এক কাপ চা খেয়ে যান এই চা বিক্রির অর্থই আবার মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে এ যেন এক ভিন্ন উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকেই কেউ কারো বাবার রাজকন্যা আবার কেউ কারো বাবা-মায়ের রাজকুমার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউল্যাব, নর্থ সাউথ, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় সহ অধিকাংশই বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংগঠনে আছে শিক্ষক চিকিৎসক কবি ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যুক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত আরো অনেকে তরুণদের এই স্বপ্নপূরণের সহযাত্রী হওয়ার জন্য, মানুষের কল্যাণে নেমে এসেছে রাস্তায় চোখে মুখে স্বপ্ন বেকার মুক্ত আত্মনির্ভরশীল এক বাংলাদেশ গড়ার।অনেকেই তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে প্রশংসা করছে।
কথা হয় আহ্বান সংগঠনের সদস্য পিয়াল, ধরিত্রী , শাকিল, রুমি আলিফ,,বিশাল ,শ্রাবণ, আসিফ , অনন্তের সঙ্গে গান গেয়ে কিভাবে মানুষের কল্যাণ করছেন আর কেনই বা এই ভিন্ন উদ্যোগ তারা বলেন গানের মাধ্যমে খুব দ্রুত আমরা মানুষের মাঝে এক ভালবাসার সেতুবন্ধন তৈরি করছি, মানুষকে জানাতে পারছি আমাদের পরিকল্পনার কথা আমাদের উদ্যোগের কথা সমাজে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রতিভা যাদের ভিতরে রয়েছে শিল্পীর সত্তা কিন্তু তা প্রকাশ হচ্ছে না অনেকেই সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ক্ষনিকের আনন্দ পায় আমাদের কাছে একটি গান যেমন তার সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় আবার মানুষের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
চা কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে বলেন আমাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী এজন্য আমরা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা দিয়ে শুরু করেছি চা বিক্রি করে কত লাভ হয় বলেন আমরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াই বিভিন্ন উন্মুক্ত মঞ্চে গান গাই কোন মঞ্চ থেকে ২০০-৩০০, ৫০০, ১০০০, ২০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়, পাশাপাশি আরো নতুন কিছু করার পরিকল্পনা আছে এবং আমাদের এই লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে ইতিমধ্যে আমরা বেশ কয়েকজনকে স্বাবলম্বী করেছি কয়েকজনকে সবজি ব্যবসায়ী করেছি কাউকে চা দোকান করে দিয়েছি বিভিন্ন পথশিশু ও সমাজের ভাসমান অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি।
এছাড়াও আমরা শহরের বিভিন্ন জায়গা আমাদের সদস্যদের নিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দিচ্ছি প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে কৃষকরা শহরে থেকে এসেছে তাদেরকে পুনরায় কৃষি পেশায় ফেরানোর জন্য বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম করছি কারণ কৃষি ক্ষেত্রে যদি বিপ্লব ঘটে তাহলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, নদীমাতৃক বাংলাদেশে অনেক নদী আজ বিলীন হয়ে গেছে অনেক নদী দূষিত হচ্ছে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ আমরা সেগুলো নিয়েও কাজ করছি কিন্তু আমাদের প্রধান লক্ষ্য বেকার মুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ার এবং আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি উদ্যোক্তা তৈরি করার যারা হবে আত্মনির্ভরশীল একজন বেকারকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারি তার মাধ্যমে আরো কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হবে, এবং আমাদের মাধ্যমে যে বেকাররা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে তারাও একসময় দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন শ্রোতার সঙ্গে কথা হয় তরুণদের এই উদ্যোগ আপনারা কিভাবে দেখছেন তারা বলেন খুব সুন্দর এবং প্রশংসনীয় একটি উদ্যাগ তরুণদের চিন্তাভাবনায় যদি একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন থাকে তবে তা বাস্তবায়িত হবেই কারণ দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি , এবং এই তরুণদের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো অনেকে এগিয়ে আসবে দেশ গঠনে।