
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রতিনিধি
অর্থ কেলেঙ্কারীর অভিযোগে দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারী আহসান হাবিব মামুনকে সাধারন সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে তার দর্শনা প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দর্শনা প্রেসক্লাবে সাধারণ সভার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আওয়াল হোসেন লিখিত তদন্ত রিপোর্ট পড়ে শুনান। এসময় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির উপস্থিত ২৩ সদস্যর মধ্যে ২ জন সদস্য মামুনের পক্ষে থাকলেও বাকি ২১ জন সদস্য তদন্ত রিপোর্টের মতামতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এসময় মামুন তার নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সভায় সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আহসান মামুনকে সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত হয় এবং সেই সাথে প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বহাল রাখা হয়। পরে মামুন সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে দেন।
দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হানিফ মন্ডলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান যুদ্ধ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ রয়েল, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রহমান, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আবিদ হাসান রিফাত, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাজিব মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ মাসুম বিল্লাহ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য- মনিরুজ্জামান ধীরু, আওয়াল হোসেন, চঞ্চল মেহমুদ। এছাড়া সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসমত আলী, দপ্তর সম্পাদক সুকমল চন্দ্র দাস বাঁধন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাব্বির আলিম, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ওয়াসিম রয়েল, কার্যনির্বাহী সদস্য- ওসমান আলী, এফএ আলমগীর ও ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো কেরুজ চিনিকলের ২০২৩-২৪ আখ মাড়াই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের সম্মানী দেয় কেরুজ কর্তপক্ষ। এ সম্মানীর টাকা দর্শনা প্রেসক্লাবের বেশ কিছু সদস্যের নামে উত্তোলন করে নিজ পকেটে ভরে। কিছুদিন পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে মামুন প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টি স্বীকার করে। প্রেসক্লাবের মান ক্ষুন্ন করায় নড়েচড়ে বসে দর্শনা প্রেসক্লাবের সকল সদস্যরা। পরে প্রেসক্লাবের সিদ্ধন্তনুযায়ী ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী আহসান হাবিব মামুন দোষী সাবস্ত হয়। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সাধারণ সভায় সর্ব সম্মতির মতামতের ভিত্তিতে আহসান হাবিব মামুনকে সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বহাল রাখা হয়।