
নাজিরপুর(পিরোজপুর):
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তে ঈদের বাজার। ঈদ মানেই আনন্দ ও উৎসবের আয়োজন।
মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান দুটি উৎসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের এই দিনটিকে ধর্মীয় কর্তব্য পালনসহ খুব আনন্দের সাথে উদযাপন করে থাকে। সারা বছর মুসলমানরা অপেক্ষায় থাকে তাদের প্রাণের উৎসব ঈদুল ফিতরের জন্য। সকলের সাথে এই ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দূর-দূরান্ত থেকে সকলেই শেকরের টানে চলে আসে তাদের নিজ বাড়িতে। সমস্ত ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর বাকি দিনগুলোর কষ্টের কথা ভুলিয়ে দিতেই যেন উদয় হয় ঈদের দিন। ঈদের দিন টাকে সুন্দর করার জন্য আয়োজন শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। ঈদকে উপলক্ষ করে শুরু হয় কেনাকাটা। শেষমুহুর্তে এসে ঈদের কেনাকাটায় নাজিরপুরের বিভিন্ন কাপড়ের দোকান, জুতা স্যান্ডেলের দোকান, কসমেটিক্সের দোকান ও খাবারের দোকানে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ এক মাসের প্রতীক্ষা শেষে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে ও পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার জন্য অভিভাবকগণ তার পরিবারের সদস্যদের পছন্দের পোশাকটি কিনে দিতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অবধি উপজেলার সদর বাজার, শ্রীরামকাঠী, গাওখালী, বৈঠাঘাট সহ বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে তাদের পছন্দের পণ্য কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছে।
এ বিষয়ে উপজেলার কালিবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী পালকী সুপার সপ এর মালিক অপুর্ব কিশোর মন্ডল জানান, সকাল থেকে গভীর রাত অবধি দোকান খুলে রাখতে হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ঈদের বাজারে ছুটে আসছেন। এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, এবারের পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় গ্রাহকদের সাথে বিক্রিত পণ্যের দাম নিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এবারের ঈদে মেয়েদের নাইরা, আফগান, সারারা, গারারা, আলিয়াভাট ও গ্রাউন্ড পোশাকের যথেষ্ট কদর রয়েছে। ছেলেদের গেঞ্জি সেট, শার্ট সেট, পায়জামা পাঞ্জাবি, কাতুয়া ও জিন্স প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। তবে সব আশঙ্কা দূর করে ঈদ পর্যন্ত ভালো ব্যবসা করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।
শ্রীরামকাঠী বাজারের ভাই ভাই কসমেটিক্স এর উত্তরাধিকারী আলআমিন জানান, ঈদে পছন্দসই কসমেটিকস কেনার জন্য গ্রাহকগন ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় বেচাকেনার সময় বেস হিমশিম খেতে হচ্ছে। দিনের প্রথম ভাগে বেচাকেনা বেশ হচ্ছে। তারপর আশা করছি শেষের দিকে ব্যবসা ভালোই হবে। পবিত্র রমজানে রোজাদারদের কাছে আকর্ষণীয় হলো ইফতার। বাহারি রঙের ইফতার সাজিয়ে রহপুরের বিভিন্ন হোটেল গুলো ভালই ব্যবসা করছে।
এছাড়াও বিভিন্ন মোড়ে রাস্তার দুই ধারে ভ্রাম্যমান দোকান করে পেয়াজু, আলুর চপ, ডিমের চপ, রসুন চপ, বেগুণী, ছোলাসহ তরমুজ, আপেল, কমলা, পেয়ারা, কলা সহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীগনরা।
শ্রীরামকাঠীর মিষ্টি ব্যবসায়ী দাস মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক জহর লাল দাস জানান, পবিত্র রমজানে ইফতার সামগ্রী বেশ ভালই কেনাবেচা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে মিষ্টি ক্রয় করতে ইতিমধ্যে গ্রাহকগন দোকানে ছুটে আসছেন। এবছর ব্যবসা ভালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন টেইলার্সের দর্জিরা। দর্জিরা ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, ম্যাক্সি সহ বিভিন্ন কাপড় প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত তাদের এ ব্যস্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কালিবাড়ী বাজারের বিজন টেইলার্সের মালিক বিজন হালদার বলেন, তৈরি পোশাকের যুগেও গ্রাহকগণ সেলাই করা পোশাকের প্রতি তাদের আগ্রহ ও আস্থা রাখছেন।আমরা সকাল ৮টা থেকে শুরু করে রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছি যাতে ঈদের আগের দিন যেন গ্রাহকদের হাতে তাদের কাঙ্খিত পোশাকটি তুলে দিতে পারি এ আশায়।
মার্কেটে গভীর রাত অবধি ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে ঈদকে সামনে রেখে মাংস এবং মসলার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। খাসির মাংস কেজি প্রতি ১১০০-১২০০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, দেশী মুরগি ৫০০-৫২০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় সবজি ও মসলার বাজার ঊর্ধুমুখী হওয়ায় ক্রেতাদের কিনতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।