
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ : হাতে হাতে পলিথিন ব্যাগ। মাছের বাজার থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমলেও দোকানীরা পণ্য ক্রয়ের পর ক্রেতার হাতে পলিথিন ব্যাগ ধরিয়ে দিচ্ছেন। ক্রেতা সাধারনও নির্ধিদায় তা নিয়ে নিচ্ছেন। মুড়াপাড়া বাজারে কথা হয় আবুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, কি করব , মাছ কেনার পর দোকানী পলিথিনে ভরে দিল, আমিও নিলাম, সবায় নিচ্ছেন এমনভাবেই। মাছের দোকানি রফিক মিয়া বলেন, আমরা কি করব, পলিথিন সহজলভ্য, কম দামে পাওয়া যায়, সহজে পরিবহন যোগ্য। অন্য ব্যাগ দাম বেশি। আমাগো পোষাবে না। মাংসের দোকানি শরিফ মিয়া বলেন, ওয়ান টাইম পলিথিন ছাড়া উপায় নাই। বেশি দামের পাটের ব্যাগ আমরা দিতে পারব না, ক্রেতারাও নিয়ে আসে না। তাছাড়া পাটের ব্যাগ সহজলভ্য নয়, দামও একটু বেশি, যা ফ্রিতে দেয়া সম্ভব না।
নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের সয়লাব গোটা রূপগঞ্জের হাট-বাজার। গত (১ অক্টোবর) থেকে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার সরকারের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানছেন না কেউ। সরেজমিনে তদারকিতে প্রশাসনের সাথে মাঠে থাকার কথা শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘ ২২ বছরেও পলিথিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়ায় কঠোর অবস্থানে অর্ন্তবর্তী সরকার।
সরকারের নির্দেশ অমান্য করেই মুদিদোকান থেকে কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফল–সহ সবখানেই বিক্রির পর এখনো পলিথিন ব্যাগে দেওয়া হচ্ছে পণ্য। বাদ নেই সুপার শপগুলোও। এখনো পলিথিনে সয়লাব পুরো বাজার ব্যবস্থা। ২০০২ সালের ১ মার্চ পলিথিন নিষিদ্ধ করা হলেও তা কার্যকরে ছিলনা কোনো উদ্যোগ। এবার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থানে অর্ন্তবর্তী সরকার।
গাউছিয়া মার্কেটে কথা বলেন ছালাউদ্দিন। তিনি জানান, কিছু জামা কাপর কিনলাম। দোকারদার পলিথিনে ভরে দিল। আমিও নিয়ে নিলাম। সব সময়ই তো নেই। এখনও নিলাম, দোষের কি। দোকানদার ইমতিয়াজ বলেন, সরকার তো বলেই খালাস। পাটের ব্যাগগুলো কই যে মানুষেরে দিমু। আর একটা ব্যাগ কিনতে পলিথিনের চেয়ে ৫০/৬০ গুণ দাম দিয়ে কিনতে হবে। কে দিবে দাম, ক্রেতা না বিক্রেতা। লাভের টাকা তো ব্যাগেই যাইব গা।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় পলিথিন ব্যাগ বিক্রি বন্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনের। বরং প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে পলিথিন বিক্রি। উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাট-বাজারে ছোট বড় সব বাজারে, লোকালয়ের দোকানসহ অলিগলির প্রতিটি দোকানেই মিলছে অবৈধ ঘোষিত পরিবেশ দূষণকারী পলিথিন।
এ ব্যাপারে ডা. কায়ছার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, পলিথিনে খাদ্যবহনে মানব দেহে কিডনি বিকল, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারসহ ফুসফুষের রোগও হতে পারে। পলিথিন সহজে পঁচে না, মাটির সাথে মিশে না। তাই পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।
প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ এইচডিপিই (হাইয়ার ডেনসিটি পলি ইথালিন) পলিব্যাগ। যার ব্যবহার মানুষের জীবনে মারাত্মক ক্ষতি করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও নীরব থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারনে সরকারী ভাবে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে দেদারছে উপজেলার প্রায় সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে এসব ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ। এর ফলে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি সাধন হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ পলিথিন ব্যাগ বিক্রয় বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।####