
পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি
ভয়াবহ বন্যায় ৯ দিন বন্ধ থাকার পর ফেনী-পরশুরাম সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সড়কের পানি কিছুটা নেমে যাওয়া আজ বুধবার সকাল থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের বাস মালিক সমিতির নেতা সিরাজুল ইসলাম ভোরের বাংলা নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কয়েকটি বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
গত ১৯ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ২০ আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরশুরাম যাওয়ার সুযোগ ছিল না। গত মঙ্গলবার থেকে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় প্রায় সব কটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগও সচল হয়েছে।
এদিকে যানচলাচল শুরু হওয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সকালে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ফেনীর হাসপাতাল মোড় থেকে দু-একটি বাস যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ৪০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ফেনী-পরশুরাম সড়কে বাস ভাড়া ২৫ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ৪০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা এ ছাড়াও পিকআপে ৮০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অপরদিকে পাওয়ার ট্রলিতে করেও ৮০ টাকা করে ফেনী পরশুরামের যাত্রী পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ফেনী-পরশুরাম সড়কের কাজিরবাগ বন্ধুয়া আনন্দপুরে সড়কে এখনো হাঁটু পানি থাকলেও পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে ফেনী-পরশুরাম সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও উপজেলা সদরের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে যাওয়া যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাসচালক সালেহ আহাম্মদ বলেন, দু-একটি বাস ফেনী থেকে পরশুরামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে তবে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বেশি ভাড়া।
পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলো নিজ নিজ বসত বাড়িতে ফিরে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ ঘরগুলোতে দেখা গেছে কাদা। ঘরের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানির স্রোতে ফেটে ও ভেঙে গেছে।
উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মান্নান জানান, তাঁদের মনিপুর গ্রামে ঘরের টিনের চাল পর্যন্ত পানি ছিল। বন্যার পানি নেমে গেলেও ঘরের বেশির ভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজ ঘরে বসবাস করতে না পেরে পাশের একটি আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের ঘর ও আসবাবপত্র মেরামত করে পুনরায় বসবাস শুরু করতে আরও এক মাস সময় লাগতে পারে।
মো. মাসুদ নামের ফেনী জেলা প্রশাসকের এক কর্মচারী বলেন, সকালে তিনি বাসে করে ফেনী গিয়ে অফিস করেছেন। সড়কের দু-এক জায়গায় এখনো পানি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দারাও নিজ নিজ ঘরে ফিরে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।