
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১৪ মাসের সংস্কার কাজ শেষে, রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে যান চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হলো চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাট সেতু। বোয়ালখালী উপজেলা এবং নগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একমাত্র সেতুটি খুলে দেওয়ার মাধ্যমে আপাতত স্বস্তি পেলেন ভোগান্তিতে থাকা বাসিন্দারা। তবে, অনেকের মনেই প্রশ্ন—এটা কি প্রকৃত সমাধান, নাকি অস্থায়ী প্রলেপ?
সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়, তবে প্রথমে টোল ছাড়াই চলবে যানবাহন। পরবর্তীতে টোল চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সেতুর প্রবেশমুখে উচ্চতা প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করা হয়েছে, ফলে ৮ ফুটের বেশি উচ্চতার যানবাহন চলতে পারবে না। পথচারীদের জন্য নতুন ওয়াকওয়ে যুক্ত করা হলেও, এতে যান চলাচলে প্রভাব পড়বে না বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এই সংস্কার প্রকল্পের খরচ প্রায় ৪৩ কোটি টাকা, এবং কাজটি পরিচালিত হয়েছে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে সম্পন্ন হওয়া সংস্কার কাজের পর, সেতুটি দিয়ে গত বছর ১২ নভেম্বর ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
১৯৩১ সালে নির্মিত এই প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ স্টিলের কাঠামোর সেতুটি নগরের পাশের উপজেলার সাথে যোগাযোগের মূল ভরসা হলেও, স্থানীয়দের জন্য তা হয়ে উঠেছে এক ‘দুঃখের প্রতীক’। বছরের পর বছর ধরে সেতুটি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়লেও, কেবল সংস্কারের মাধ্যমে চলাচল সক্ষম রাখা হচ্ছে, যা বোয়ালখালীবাসীর উন্নয়নে বড় বাধা। নতুন সেতুর দাবি বহুদিনের, কারণ অপ্রতুল সংস্কার ও দুর্নীতির কারণে স্থায়ী সমাধান অধরাই থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, নগরের পাশের উপজেলায় হয়েও চট্টগ্রামের সাথে সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের অভাব বোয়ালখালীর উন্নয়নের প্রধান বাধা। বারবার মেরামতের ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুটি সাময়িকভাবে চালু হলেও, এলাকাবাসী আশঙ্কা করছে যে আবারও ভোগান্তি ফিরতে পারে। তাদের একটাই দাবি—“নতুন সেতু চাই, তালি জোড়া নয়!”