
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ওসমান গনির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র আশরাফুল আলমের আত্মীয় হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পৌরসভার মেথর পদে চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তাঁর চলাফেরা শুরু হয় পৌর মেয়রের মতো। কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে নিয়মিত দাপট দেখাতে থাকেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হয়েও ওসমান গুরুত্বপূর্ণ পৌর ডিজিটাল ল্যাবে দায়িত্ব নেন। এ সময় তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করে গোপনীয় তথ্য ফাঁস করেন। এছাড়া কথিত কিছু সাংবাদিককে ম্যানেজ করে পৌরসভার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পৌরসভার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত পাঁচ বছর ধরে দুটি ট্রাক ও একটি রোলার নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসছিলেন ওসমান গনি। তবে এ বিপুল অঙ্কের ভাড়ার টাকা কখনো পৌরসভায় জমা দেননি। বরং হিসাব চাইলে নানা তালবাহানা করেন। পাশাপাশি সহকর্মী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও তিনি নিয়মিত অপপ্রচার চালাতেন।
এমনকি পৌর ভবনেই তিনি ব্যক্তিগত অফিস খুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই অফিস সাজাতে ব্যবহার করেছেন পৌরসভার আসবাবপত্র। স্থানীয়রা বলছেন, মেথর পদে চাকরি করেও ওসমান নিজেকে মেয়রের মতো আচরণ করেন। সরকারি চাকরিতে বহাল থাকাকালীন ব্যক্তিগত অফিস খোলা এবং প্রকাশ্যে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী।
ওসমান গনি চাকরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শতাধিক বাড়ির ডিজাইন অনুমোদন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজনীতির ক্ষেত্রেও ওসমান গনির অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আগে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছিলেন। কিন্তু গত ৫ আগস্ট থেকে জামায়াত ইসলামী ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও পৌরসভা কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে লোহাগড়া পৌর প্রশাসক মিঠুন মৈত্র বলেন,
“ওসমানের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ পাচ্ছি। পূজোর ছুটির পরে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
