
৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার গুরুত্বকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম নিয়ে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের সুদূরপ্রসারী ভাবনা ও প্রত্যাশাগুলো ফুটে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন নবীন শিক্ষার্থীর লেখনীতে। তরুণ প্রজন্মের এই আকাঙ্ক্ষা ও গণমাধ্যম বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিগুলো তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ তাসনীম।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অঙ্গীকার
গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এটি কেবল প্রতিফলক নয়, বরং জনমতের এক শক্তিশালী কারিগর। ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ আমাদের এই সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয় যে—তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হওয়া অসম্ভব। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার চোখে গণমাধ্যম কেবল সংবাদের উৎস নয়, বরং এটি আমাদের মনন গঠন ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার অন্যতম প্রভাবক।
চলন্ত প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের পরিধি সংবাদপত্রের পাতা পেরিয়ে ডিজিটাল স্ক্রিনে আছড়ে পড়েছে। চোখের সামনে ভাসে দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া নানাবিধ ঘটনা। তথ্য এখন আমাদের হাতের মুঠোয়, কিন্তু এই প্রাচুর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘তথ্য-বিভ্রাট’ বা মিস-ইনফরমেশনের ঝুঁকিও। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সমান্তরালে নৈতিকতার চর্চা এখন সময়ের দাবি। সস্তা জনপ্রিয়তার দৌড়ে সত্য যেন চাপা না পড়ে এবং বস্তুনিষ্ঠতা যেন ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে মাথা নত না করে—সেটি নিশ্চিত করাই হোক এই দিবসের অঙ্গীকার।
-মোহাম্মদ সামির হোসেন
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক আশংকাজনক হারে কমছে
গণমাধ্যম হলো স্বাধীন মত প্রকাশের একটি প্রধান মাধ্যম । গণমাধ্যমের দ্বারা উঠে আসে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কথা , উঠে আসে অত্যাচারিতের কথা, আসে সমাজের নানা অনিয়মের কথা। গণমাধ্যমকে হতে হবে স্বাধীন; কারো দ্বারা প্রভাবিত নয় । কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই গণমাধ্যমগুলো তাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছে, যেটা কখনোই কাম্য নয়। বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই বছর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবনতি হয়েছে তিন ধাপ । গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান যেখানে ছিলো ১৪৯ তম , এই বছর নেমে এসেছে ১৫২ তমতে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বা আরএসএফ প্রতিবছর ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক’ প্রকাশ করে । ১৮০ টি দেশের উপর করা এই সূচকে এইবার সারা বিশ্বেই গড় স্কোর কম ,যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক । সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের ছবক দেওয়া যুক্তরাষ্টের অবস্থানও সাত ধাপ পিছিয়েছে । আমরা চাই গণমাধ্যম স্বাধীন হোক , হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ।
-মো: শাদমান আকিব ,
শিক্ষার্থী, যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মুক্ত গণমাধ্যমে টিকে থাকুক গণতন্ত্র
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে গণমাধ্যমকে আমি দেখি আমার শিক্ষকের মতো। পাঠ্যবইয়ের বাইরে যে পৃথিবী, তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন আর অনলাইন পোর্টাল। কিন্তু এই গণমাধ্যম যখন ভয়ে, চাপে বা স্বার্থের বশে সত্য গোপন করে, তখন আমরা শিক্ষার্থীরাও বিভ্রান্ত হই।
বর্তমান সময়ে একটি বেদনাদায়ক সত্য হলো, কিছু গণমাধ্যম যেন ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। আজকের ডিজিটাল যুগে তথ্যের ঢল নেমেছে। কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা, তা বুঝে ওঠা কঠিন। ভুয়া সংবাদ সমাজে বিষের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তাই মুক্ত, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।আমরা চাই এমন সাংবাদিকতা, যেখানে ক্ষমতার মুখের দিকে না তাকিয়ে সাধারণ মানুষের কথা বলা হয়, যেখানে একজন সাংবাদিক নির্ভয়ে কলম ধরতে পারেন। কারণ যে সমাজে গণমাধ্যম মুক্ত, সেই সমাজেই গণতন্ত্র টিকে থাকে।
-মুহাম্মাদ রিদুয়ান,
শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।