
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
ঘাটাইলের সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ্ বাহার । তিনি একজন কোরআনের হাফেজ ও মাওলানা। তার বিরুদ্ধেই উঠেছে পরিষদের নামে দেওয়া সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ।
২০২৩-২৪ অর্থ বছর সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা ধরে অনুসন্ধান বেড়িয়ে আসে পুকুর চুরির মতো ঘটনা। এরই মধ্যে অর্থবছর শেষ। এই অর্থ বছরে ইউনিয়ন পরিষদে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নামে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে টাকার অঙ্ক এক লাখ ৬৪ হাজার।
সরেজমিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, পরিষদের ভেতরে দুইটা এবং পরিষদের বাহিরে একটি গাছে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি, এতে মোট পাঁচটি ক্যামেরার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। গাছের তিনটি ক্যামেরার মধ্যে একটি ভেঙে গেছে। ওই সিসি ক্যামেরা ‘ক্যামপ্রো’ ব্রান্ডের। পরিষদের সামনে গেলে দেখা হয় ইউপি সদস্য মোকাম্মেল হোসেনের সঙ্গে। প্রতিবেদক তার বাসায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করবেন- কৌশলে পরিষদে লাগানো সিসি ক্যামেরা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তার ভাষ্য, এই ক্যামেরাগুলো ভালো। আপনি বাসায় লাগাতে পারেন। দাম কত? কতদিন আগে লাগানো হয়েছে? দামের বিষয়ে বলতে না পারলেও সময়টা বললেন তিনি পাঁচ-ছয় মাস আগে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একজন ইউপি সদস্য বলেন শুধু পাঁচটা সিসি ক্যামেরা কেনা হয়েছে মনিটর বা অন্যকিছু কেনা হয়নি। তিনি আরও জানান কোথায় কোন প্রকল্প দেওয়া হয় তা একমাত্র চেয়ারম্যানই ভালো জানেন।
সিসি ক্যামেরা স্থাপন এই প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন নারী ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম। কত টাকা দিয়ে ক্যামেরা কেনা হয়েছে তা তিনি জানেন না। জানেন চেয়ারম্যান। ক্যামপ্রো ক্যামেরার দাম যাচাই করতে কথা হয় ঢাকার আইসিটি ভবনে অবস্থিত ‘গাোল্ডেন সান’ দোকানের মালিক আবু সাইদের সঙ্গে। তিনি বলেন, অডিও, ভিডিও এবং হাইরেজুলেশনের সর্বোচ্চ ভালো মানের ক্যামপ্রো সিসি ক্যামেরার মূল্য দুই হাজার ৮০০ টাকা। তবে আমরা বিক্রি করি দুই হাজার ৪৫০ টাকায়।
হাতীমারা জালাল মেম্বারের বাড়ির মোড় থেকে আলালের বাড়ি হয়ে হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত এবং সাগরদীঘি বাইপাস রাস্তা হতে আলীমের বাড়ির পাকা রাস্তা পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা নির্মাণে একটি প্রকল্প দেওয়া হয়। মাটির কাজের এই প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল চার লাখ ৪১ হাজার টাকা। স্থানীয়রা জানায় নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে রাস্তায়।
সাগরদীঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ্ বাহার বলেন, সিসি ক্যামেরার জন্য বরাদ্দের পুরো টাকা এখনো উপজেলা প্রকল্প অফিস থেকে উত্তোলণ করা হয়নি। যা টাকা পাওয়া গেছে সেই টাকা দিয়ে পাঁচটি ক্যামেরা ও একটি মনিটর কেনা হয়েছিল। তবে মনিটর নষ্ট হয়ে গেছে। ক্যামেরার দাম কত? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন- তালিকা দেখে বলতে হবে । রাস্তার কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ভালোভাবেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে টিআর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। যার পুরো টাকাই চেয়ারম্যান উত্তোলণ করেছেন। আর রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্প কাজে কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান বলেন, প্রকল্প কাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।