
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান ওরফে মুক্তি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার বিকালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান জানান, সোমবার হাইকোর্ট থেকে সহিদুর রহমান খান মুক্তি জামিন পান। কাগজপত্র দেরি করে আসায় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে সময় লেগেছে।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগার সূত্র জানায়, জামিনের কাগজপত্র আসার পর বুধবার সহিদুর রহমান খান মুক্তি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সহকারি পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। তার ভাই আমানুর রহমান খান ওরফে রানা ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
এর আগে গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারীতে সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে অন্তবর্তী জামিন পেয়েছিলেন। পরে মামলার বাদি অন্তবর্তী জামিনের মেয়াদ বর্ধিত না করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। শুনানী শেষে আদালত গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারিতে জামিন বাতিলের আদেশ দেন। তারপর সহিদুর রহমান খান মুক্তি আবার কারাগারে যান।
আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আত্মসমর্পন করেন। আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। মাঝে গত বছর অন্তবর্তী জামিন পেয়ে ১৮ দিন কারাগারের বাইরে ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজ পাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে হত্যা মামলা করেন। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করে। আদালত এই দুই জনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যা সঙ্গে তৎকালীন টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা ও বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর তারা আত্মগোপনে চলে যান।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে আমানুর রহমান খান রানা ও অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে স্বাক্ষী গ্রহণ চলছে।