
ইবি সংবাদদাতা:
ঐতিহাসিল পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে গতকাল সোমবার প্রকাশ্যে এসেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি। সংগঠনটির সভাপতি এইচ এম আবু মুসা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায়।
প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সাথে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছাত্রশিবিরে নারী শিক্ষার্থী না থাকা প্রসঙ্গে সভাপতি এইচ এম আবু মুসা বলেন, ‘অন্যান্য সংগঠনের চাইতে আমরা নারীদেরকে বেশি স্পেস দিয়ে থাকি। ছাত্রীসংস্থা নামের তাদের আলাদা প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। নারীদের থেকেও যেন জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব তৈরি হয় সেজন্য তাদেরকে এই আলাদা স্পেস দিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের নিজস্ব কমিটি রয়েছে, তারা নিজেদের মতো করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে দাবি-দাওয়া ও বিভিন্ন অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা একসাথেই আন্দোলন করে থাকি।’
এতদিন গোপনে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করিনি এ কথাটি শতভাগ সত্য নয়। আমাদের সংগঠন কোনো সময়ই নিষ্ক্রিয় ছিলো না। স্বৈরাচারী শাসনের কারণে একটু চাপাচাপিতে ছিলাম। আপনারাও হয়তো বিভিন্ন কারণে আমাদের কাছে আসার সুযোগ পাননি। প্রতিবছরই আমাদের নতুন কমিটি হয়েছে, আমার সবসময়ই কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। আমরা কখনোই গোপন ছিলাম না। এখানো হঠাৎ করে প্রকাশ হওয়ার মতো কোনো বিষয় দেখছি না।’
ক্যাম্পাসে ভিন্ন মতের সংস্কৃতি চর্চা নিয়ে বলেন, ‘ছাত্রশিবির সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চায় বিশ্বাস করে। এতে যেকোনো মতের সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের নিজস্ব মত অনুযায়ী এটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে পারবে। এখানে ছাত্রসংগঠন হিসেবে আমাদের বাঁধা দেওয়ার কিছু নেই। এটা তাদের মৌলিক অধিকার।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে, আন্তর্জাতিকীকরণের দিকে যদি ক্যাম্পাসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীকে একটি প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াতে হবে। দাবি দাওয়া আদায়ে দল-মত ভুলে সবাইকে একটি জায়গায় এসে দাঁড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্য উপাচার্য যে চিন্তাগুলো করছেন, আমরা সবাই মিলে যদি সহযোগিতা করি তাহলে প্রশাসন সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে। সবাইকে একসাথে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’