
নীলফামারী সংবাদদাতা
নীলফামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫২তম নীলফামারী হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন করেছে মুক্তিযোদ্ধাসহ নীলফামারীর সর্বস্তরের মানুষ। মহান বিজয় দিবসের তিন দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর এ জেলাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করেনমুক্তিযোদ্ধারা।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এর আয়োজনে নীলফামারী শহরের চৌধুরী স্মৃতি অম্লান চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর একটি আনন্দ মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর নীলফামারীর প্রাণ কেন্দ্র চৌরঙ্গীমোড়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেদিন সকল ধর্ম, বর্ণ, বর্ণ ও বয়সের মানুষ জয় বাংলার স্লোগানে আন্তরিক আনন্দ প্রকাশ করে।
পাকিস্তানী হানাদার ও আল বদর নীলফামারী সরকারি কলেজ, কলেজ হল ও ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে বাঙ্গালীদের নির্যাতনের একটি টর্চারসেল স্থাপন করে। নারী পুরুষকে এখানে এনে নির্মম নির্যাতন করা হতো। নারীদের ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে কলেজ ক্যাম্পাসের গণকবরে সমাহিত করে পাক বাহিনী। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শহীদ হন ক্যাপ্টেন বাশার, আলী হোসেন, আহমেদুল হক প্রধান, আনজারুল হক দিরাজ, জাহেরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, মিজানুর রহমান, সামসুল কিবরিয়া, আবদুস সাত্তার ও মির্জা হাবিবুর রহমান বেগসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে নীলফামারীর স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এরপর তারা কলেজ ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালিয়ে আক্রান্ত তিন নারীকে উদ্ধার করে। কলেজ স্টেশনের কাছে সব বয়সী অনেকের লাশ পাওয়া যায়। যেখানে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পাকিস্তানি আর্মি এতটাই নির্দয় যে তারা মৃতদেহ কবর দেয়নি। এখন সব দল ও সব ধর্মের মানুষ মনের অন্তস্থল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহসিকতাকে স্মরণ করে। এ ছাড়া, একই সঙ্গে তারা একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জঘন্য কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করে।
এদিকে, আনন্দ র্যালীর পর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, জেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মমতাজুল হক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুজার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান প্রমুখ।