
জাবি প্রতিনিধি
‘ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় আগ্রহী ছিল রায়হান। এজন্য আমি তাকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে সে আন্দোলনে যোগ দেয়। একপর্যায়ে গ্রেফতারও হয়। ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শামীম মোল্লা ও তার অনুসারীরা (ছাত্রলীগ নেতাকর্মী) আমার ছেলের উপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন করেছে। ভিসির বাসায় শামীম মোল্লার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। সেই হামলাকারীরা এখন সব জায়গায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আমার ছেলে সামান্য অপরাধে আজ হাজতে। আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।’
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গণপিটুনিতে মাদক ব্যবসায়ী শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি মাহমুদুল হাসান রায়হানের বাবা কবির আহমেদ। রবিবার ভোরে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ রায়হানকে গ্রেপ্তার করে। মাহমুদুল হাসান রায়হান (২০) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ সালনার আরালিয়া গ্রামে।
রায়হানের মা রেহেনা পারভিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই কোনো অপরাধের সাথে জড়ায় নাই রায়হান। সে সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রায় পনেরোশো মানুষ মারা গেছে। তার কোনো বিচার এখনো প্রশাসন করতে পারেনি। আর এতটুকু অপরাধের কারণে আমার ছেলে হত্যা মামলার তিন নাম্বার আসামি হতে পারে না। আমি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই মামলার বিচার চাই। শামীম মোল্লাকে যখন গণপিটুনি দেয়া হয়েছিল তখন রায়হান ওখানে ছিল না। পরবর্তীতে সে খবর পেয়ে সেখানে চলে আসে এবং রাগের বশবর্তী হয়ে দুইটা লাথি দেয়। দুইটা লাথি দেয়ার কারণে আমার ছেলে হত্যা মামলার আসামি হতে পারে না। দুইটা লাথি দেয়ার কারণে যতটুকু শাস্তি হয় ততটুক শাস্তি আপনারা তাকে দিন।’
মাহমুদুল হাসান রায়হানের ছোটভাই বলেন, ‘আন্দোলন করার কারণে আমার ভাইকে যারা গ্রেপ্তার করছিলো তাদের বিচার কোথায়? শুধু আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলো কেন? মারছে তো অনেকেই। মূল খুনি ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। ভাইয়ার অনেক স্বপ্ন ছিল, আমাদের পরিবারেও স্বপ্ন ছিল তাকে নিয়ে। সব ধূলিসাৎ করে দিলো।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার গণপিটুনিতে মারা যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লা। তার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করে। রায়হান সেই মামলার তিন নম্বর আসামি।