
ইবি সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নাম ব্যবহার করে খোলা একটি ফেসবুক পেইজ থেকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের কিছু ছাত্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৯ মে) ক্যাম্পাসস্থ ইবি থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিভাগটির মাস্টার্স ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সোলাইমান হোসেন।
অভিযোগে তিনি বিবাদী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করেন। তারা হলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের রানা আহম্মেদ অভি, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সেলিম ও মুরাদ আলী।
অভিযোগে বলা হয়, উক্ত তিনজন বিবাদী ‘Islamic University, Kustia’ পেইজের মাধ্যমে ক্যাম্পাস সংলগ্ন হোয়াইট হাউজ মেসে বসবাসরত ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের কিছু ছাত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা র্যাগিংয়ের অপপ্রচার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে। কে বা কারা সত্য মিথ্যা যাচাই না করে হোয়াইট হাউজে বসবাসরত বিভাগটির ছাত্রদের সামাজিক ভাবে সম্মান হানির অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন বাদী।
এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ এসেছে। থানার এসআই বাইরে আছেন। তিনি এসে বিষয়টা দেখবেন। বাদী ও বিবাদীদের সাথে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৮ মে) অভিযোগে উল্লেখিত ‘Islamic University, Kustia’ নামক ফেসবুক পেইজ থেকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন হোয়াইট হাউজ মেসে আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অলিক কুমার সিকদারকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয়েছে মর্মে একটি পোস্ট করা হয়। পরবর্তীতে ওই পেইজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় যাতে অলিক কুমার ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। প্রথম পোস্টে শারীরিক অত্যাচারের দাবি করা হলেও বর্ণনায় অলিক এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে মারতে উদ্যত হন বলে জানান তিনি। বর্ণনায় অলিক দাবি করেন মেসের সিট সংক্রান্ত বিষয়ে বাদী সোলাইমান হোসেনসহ সাত-আট জন শিক্ষার্থী তাকে ডেকে নিয়ে তার সাথে রূঢ় আচরণ ও গালাগাল করে। এক পর্যায়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়। পরে রূঢ়ভাবে তাকে রুম থেকে বের করে দেয়। এতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে এবং সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল ও ঝিনাইদহ মেডিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তবে এই ঘটনাকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন বাদী ও মেসটির পরিচালক সোলাইমান হোসেনসহ মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা। তারা ওই পেইজের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মেসটির শিক্ষার্থীদের দাবি, অলিক আগে থেকেই প্যানিক অ্যাটাকের রোগী ছিলো, যা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের ডা. পারভেজ হাসান নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’ নামের ফেসবুক পেইজে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাটি ভাইরাল করা হয়েছে। যারা অপপ্রচার চালিয়েছে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে।